চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা

কর্মকর্তাদের বেতন দ্বিগুণ করার পরও কেন দুর্নীতি হবে
………….সচিব মো. নুরুল আমিন

এস এম সোহেল
চাঁদপুর জেলা মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল আমিন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ফরিদগঞ্জের গল্লাক-কামতায় একটি পুলিশ ক্যাম্প করা দরকার। কারণ এখানে কোন ঘটনা ঘটলে পুলিশ পৌঁছাতে অনেক দেরী হয়। আমরা এখন সবদিকে স্বয়ংসম্পূর্ণের পথে। ইলিশ রপ্তানী দিয়ে আমরা সারা বিশ্বে আজ প্রথম, গার্মেন্টস শিল্পে আমরা দ্বিতীয়, সবজি উৎপাদনে আমরা তৃতীয় ও ধান উৎপাদনে আমরা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছি। আয়তনের দিক দিয়ে আমরা সারা বিশ্বে ৯৪তম। কিন্তু অল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আজ আমরা বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত। দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্বে আমাদের লোকজন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ- আমাদের সবদিকে মডেল হতে হবে। আগে আমরা বিদেশে যেতাম প্রশিক্ষণের জন্য, আর এখন বিদেশীরা আসে আমাদের দেশে। আগামি বছরের পরিকল্পনা নিয়ে ডেল্টা প্ল্যান করা হচ্ছে। ডেল্টা প্লানের মাধ্যমে সব প্রকার প্রকল্পগুলো আস্তে-আস্তে আমাদের দেশে বাস্তবায়ন হবে। আজ আমাদের দেশের সব খাতে উন্নয়ন হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে একনেকের মিটিংয়ে নিজেই উন্নয়ন প্রকল্প যাচাই করছেন এবং নিজেই গ্রহণ করছে। যাতে আজ বাংলাদেশ সর্বদিক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। চাঁদপুরে ২১০টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আরো যদি কোন প্রকল্প থাকে তাহলে পাঠাতে হবে। আমি গনি স্কুলের ছাত্র। এই স্কুলের জন্য একটি প্রকল্প আছে, কিন্তু প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নেই। প্রত্যেকটি প্রকল্পের কাজ ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে উন্নয়ন কাজ করলে সুফল আসবে। চাঁদপুরের উন্নয়নের জন্য আমাদের আরো যোগাযোগ বাড়াতে হবে। আন্তরিকতা ও আগ্রহ নিয়ে উন্নয়ন কাজগুলো করা হয়ে আমরা এগিয়ে যাব। দুর্নীতির ১৫তম সিরিয়ালে বাংলাদেশের নাম নাই। একসময় এ দেশ দুর্নীতিতে প্রথম স্থানে ছিলো। সরকার কর্মকর্তাদের ১২৩ ভাগ বেতন বাড়ানো হয়েছে। তারপরে কেন দুর্নীতি হবে? আসুন সবাই মিলে এ দেশটাকে ভালোবেসে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ করি।
সচিব আরো বলেন, এক সময় আমরা বিদেশে যেতাম, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু এখন বহিঃর্বিশ্বের মানুষ আমাদের দেশে এসে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। তারা কৌতুহলী আমাদের উন্নয়ন দেখে। আমাদের বর্তমান দরিদ্রসীমা ২১%, আমেরিকার আছে ১৮%। প্রধানমন্ত্রীর এসব অনুশাসন মেনে চললে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের দরিদ্রসীমা ১৭% নেমে আসবে। প্রত্যেক উপজেলায় স্টেডিয়াম করা হবে। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হবে। সবকিছু বাস্তবায়নে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে, সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা উন্নয়নের স্বার্থে প্রকল্প জমা দিন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করবো। চাঁদপুরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বিগত মাসের কার্যবিবরণী ও অগ্রগতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া। সভায় স্ব-স্ব বিভাগের বিভিন্ন দিকের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন বিভাগের কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) আসাদুজ্জামান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এএইচএম গিয়াস উদ্দিন, চাঁদপুর টেকনিক্যাল স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এনএসআই’র যুগ্ম-পরিচালক মো. আজিজুল হক, জেলা পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান, ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, শাহরাস্তি উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ উল্যাহ, হাজীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাঈনুদ্দিন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বডুয়া, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।