চাঁদপুর জেলা পুলিশের ‘মিট দ্যা প্রেস’

পুলিশের জন্য সাংবাদিকরা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে
………… মো. মাহবুবুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেছেন, পুলিশ সাংবাদিকের সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন করা যায় না। সমাজে কাজ করার ক্ষেত্রে অর্থাৎ মানুষকে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য সাংবাদিকগণ সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করেন। যার ফলে আমরা এখন সাংবাদিক বান্ধব পুলিশিং করছি। সাংবাদিকদেরকে তথ্য দিলে ভাল রিপোর্ট তৈরী হয়। অনেক সময় সেসব তথ্যের কারণে মামলার কাজগুলো অগ্রগতি হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট পুলিশ লাইনস্রে ড্রিল সেডে জেলা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি হওয়ার কারণে যে কোন সময় চাঁদপুর ত্যাগ করতে হবে। যার কারণে এই অনুষ্ঠানে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। যে কোন সময় নতুন স্থানে গিয়ে যুক্ত হতে হবে। আপনাদের সাথে আমি ১৭ মাস কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এটি ছিলো আমার চাকরি জীবনে স্বর্ণালী সময়।
এসপি বলেন, গত ১৭ মাসে সব পর্যায়ের সাংবাদিকদের সহযোগিতা ছিলো। এ সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জেলায় ৮০২টি মামলা হয়েছে। এই সংক্রান্ত আসামি আটক হয়েছে ১ হাজার ৭৩জন। জেলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ও অন্যান্য মামলার আসামি গ্রেফতার হয়েছে ৬ হাজার ৭ শ’ ৫৫জন। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৪৩ লাখ ১৮ হাজার ৬শ’ ৩৫টাকা।
এসপি বলেন, ঠিক এ সময় উল্লেখ্যযোগ্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা। এছাড়া মতলব উত্তরে বস্তাবন্দী ও মস্তবিহীন লাশ উদ্ধার মামলাগুলোর অগ্রগতি হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, আজকের আয়োজন আমাদের পুলিশ-সাংবাদিকের হৃদয়ের আর্তনাদ। আপনাদের সাথে মিট হওয়ার উদ্দেশ্যে আপনাদের হৃদয়ে স্থান করে দেয়ার সুযোগ নিলাম। কারণ আপনাদের ভাল কথাগুলো শোনার লোভ সামলাতে পারলাম না।
করোনা সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে পুলিশ ও সাংবাদিক অনেক সাহসিকতার সাথে কাজ করেছে। এখন পর্যন্ত আমরা সুস্থ আছি। এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ঠিক এ মুহূর্তে আমি খুব কাছ থেকে সাংবাদিকদের উপলব্ধি করেছি। অনেক রাত জেগে সাংবাদিকরা কাজ করেন। তাদের এই রাত জেগে কাজের উদ্দেশ্যে হলে তাদের সংবাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। সাংবাদিকরা আমাদের সাথে মিশে আছেন অক্সিজেনের মত। সাংবাদিকরা আমার পরিবারের সদস্যের মত। আপনাদের পরিবারের সদস্য হতে পারলে আমি ধন্য হবো। দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমাকে ভাল মানুষ হওয়ার সুযোগ দেয় এবং আমার কোন কাজে যেন কোন মানুষের কখনো কোন ক্ষতি হয় না। কোন জেলায় গেলে আগেই চিন্তা করি, সেখান থেকে যেন ভালভাবে বিদায় নিতে পারি।
পুলিশ সুপার বলেন, চাঁদপুরে থাকাকালীন সময়ে চেষ্টা করেছি থানাগুলোকে সেবার কেন্দ্রবৃন্দ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়েছে। চাঁদপুরে আগে দু’টি আইপি ফোন ছিলো। এখনো জেলার ৮ থানায় আরো ৮টি আইপি ফোন দেয়া হয়েছে। যার ফলে অপরাধ শনাক্ত অনেকটা সহজ হবে। জঙ্গিবাদ নিয়েও চাঁদপুরে উল্লেখযোগ্য কাজ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চাঁদপুরের সাংবাদিকরা চূড়ান্ত ব্যাক্তিত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকতা করেন। এ জন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) মো. আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) আবুল কালাম চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ।
উন্মুক্ত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সোহেল রুশদী, এমআর ইসলাম বাবু, কে এম মাসুদ, আলম পলাশ, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন লিটন, শাহাদাত হোসেন শান্ত, এম এ লতিফ, এ কে আজাদ, শাওন পাটওয়ারী, আবদুর রহমান গাজী, শওকত আলী, ইব্রাহিম রণি, শরীফুল ইসলাম, বাবু আলম, এএইচএম আহসান উল্যাহ, মির্জা জাকির, ফারুক আহমেদ, শরীফ চৌধুরী, জালাল চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন মিলন, লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, শহীদ পাটওয়ারী।
উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার শেহরিন আলম, চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. নাসিম উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদসহ জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন পুলিশ লাইন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুস সালাম ও গীতা পাঠ করেন চাঁদপুর পুলিশ হাসপাতালের পার্শ্বনাথ দাশ। এরপরে সারাদেশে করোনাকালীন সময়ে ৭৭জন পুলিশ সদস্য ও ৪৪জন সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করায় তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমানকে করোনাকালীন সময়ে উল্লেখযোগ্য নেতৃত্বের কারণে চাঁদপুর প্রেসক্লাব পদক ২০২০, ক্রেস্ট, সনদপত্র, উত্তরীয় ও কোর্টপিন পরিয়ে দেন প্রেসক্লাবের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও পুলিশ সুপারের বিদায় উপলক্ষে প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।