চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সম্প্রীতি সমাবেশ

অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে……শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি

সজীব খান
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের পেছনে একটা অপশক্তি কাজ করছে, কোন একটা সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না। আমরা এ দেশকে পেয়েছি মুক্তিযেদ্ধের মাধ্যমে, তাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কেউ চায় না। বাঙালি জাতি একত্রে বসবাস করার ইতিহাস রয়েছে, সে ইতিহাসে মনে করে চলতে হবে। বাংলাদেশে বসবাসের জন্য উপযুক্ত সংবিধান তৈরি করেছে, সে সংবিধানে সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে। একটি চক্র পাকিস্তানি আদলে আবার বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে কাজ করছে। সেসব ঘাতকদের চিহ্নিত করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সবাই এক ও অভিন্ন, তারা আজো সক্রিয় রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশ আজ অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ সব বিষয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য সে চক্র আজো তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন কুসংস্কার রটিয়ে জনগণের মনে বিভ্রান্তি করতে চাচ্ছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দল মানুষের মনে বিভিন্ন অপব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছে। সে অপশক্তি বলে বেড়াচ্ছে দেশে নাকি গণতন্ত্র নেই। দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকতো তাহলে তারা কিভাবে কথা বলছে।
তিনি বলেন, বিএনপি পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা বলছে, সব কিছু শেষ করে তারা আজ গণতন্ত্রের কথা বলছে। মুক্তিযেদ্ধের পক্ষের মানুষ, গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ বিএনপির দ্বারাই নির্যাতিত হয়েছে। সমস্ত গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে তারা। ‘৭১-এর পরাজিত অপশক্তি আজো বাংলাদেশের বিপক্ষে রয়েছে।
ডা. দীপু মনি বলেন, একটি হিন্দুর বাড়িতে আক্রমন হয়েছে, সনাতন ধর্মের মানুষের উপর হামলা হয়েছে- তা কখনো আমাদের কারো কাম্য নয়। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে কি করে দেশকে অস্থির করা যায় সেজন্য একটি চক্র সক্রিয় হচ্ছে। কোন শক্তিই বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারবে না। ধর্মের অপব্যাখ্যা না দিয়ে, মানুষের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। যারা সমাজের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে তাদের শত্রু মানুষ, তাদের শত্রু মানবতা, তদের শত্রু স্বাধীনতা। নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করলে মানবতার কথা বলতে হবে। অন্য ধর্মের মানুষদেরও সে কথা মানতে হবে, সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করবো। মানবিকতা চিন্তা করতে হবে, মানুষত্ব যদি সবার মনে থাকে তাহলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উস্কানীমূলক কথা লেখা যাবে না। বাঙালির প্রতিটি ঘরে কিছুটা হলেও নিরাপত্তার ধাক্কা খেয়েছেন। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিজেদের আওয়ামী পরিবারের সদস্য দাবি করি, তাহলে এ অপশক্তির বিরিদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা সবাই সবার দায়িত্ব নিব, আমরা সবাই সজাগ ও সচেতন থাকবো। সমাজ থেকে অপশক্তিকারীকে রোধ করবো। চোখ-কান খোলা রাখবো। দুষ্কৃতকারীরা সংখ্যায় কম, আমরা সংখ্যা বেশি, সবাই মিলে ঐক্য থাকতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলে একত্রে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই এক অভিন্ন। এ দেশ বাঙালি-অবাঙালি সবার, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগের কারণেই অসাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, সবাইকে বুঝে শুনে সামাজিক যোগাযোগে বিভিন্ন পোস্ট দিতে হবে। যারা আমাদের উস্কানী দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ধর্মীয় অপব্যাখ্যা যাতে দিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোরাআন কি বলেছে, হাদিস কি বলেছে, সে বিষয়গুলো আগে জানতে হবে। ধর্মীয় বাণীগুলো সবাইকে জানাতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন একসাথে কাজ করলে অসম্প্রাদিয়ক কাজ বন্ধ হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখলে দেশ এগিয়ে যাবে। আজান হোক মসজিদে, ঘণ্টা বাজুক মন্দিরে- এটাই হোক আমাদের সম্প্রীতির বাংলাদেশে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিকর্মী এম আর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএইচএম কবির আহমেদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, চান্দ্রা বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাও. মো. আল আমীন, তরপুরচন্ডী গাজী বাড়ি জামে মসজিদের মাও. মেহেদী হাসান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, চাঁদপুর হরিবালা সমিতির সভাপতি অজয় কুমার ভৌমিক, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী, বেভারেজ মনিন্দ্র বর্মন চার্জ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাজনাজ, ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অ্যাড. মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, পুরাণবাজার কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী, হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম লিপন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির প্রতিনিধি অ্যাড. সাইফুদ্দিন বাবু, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইউব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানা, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, মোহাম্মদ আলী মাঝি, সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড. হুমায়ূন কবির সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক সিমুল হাসান সাবনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মো. মোতালেব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন মিজি, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের নৌকা মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদুর রহমান নান্টু, বালিয়া ইউনিয়নের নৌকা মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল্লাহ পাটওয়ারী, হানারচরের নৌকা মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুকবুল হোসেন মিয়াজী, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন খান শামীম, আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী, মৈশাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক, তরপুরচন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী, বাগাদী ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন গাজী বিল্লাল, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান, ইব্রাহীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ কাশেম খান, চান্দ্রা ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী, রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারীসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, জেলা ও উপজেলা যুবলীগ, জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগসহ বিভিন্নস্তরের মানুষ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম মাও. মো. কেফায়েত উল্ল্যাহ, গীতা পাঠ করেন বিমল চৌধুরী ও বাইবেল পাঠ করেন মনিন্দ্র বর্মন।

২০ অক্টোবর, ২০২১।