হুমকির মুখে হরিসভা মন্দিরসহ পুরো এলাকা
স্টাফ রিপোর্টার
পদ্মা ও মেঘনার তীব্র স্রোতের কারণে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় নদীর তীর দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরিসভা মন্দিরের সামনে বেশকিছু এলাকা দেবে গেছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে হরিসভা মন্দিরসহ পুরো এলাকা।
মূলতঃ দেশের উত্তরাঞ্চলের বানের পানি দক্ষিণের সাগরে নামতে শুরু করায় পদ্মা গড়িয়ে পাশে মেঘনার এই অংশ ভাঙছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালিভর্তি বস্তা ফেলে নদী তীর সংরক্ষণের চেষ্টা করছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে ভাঙনের ফলে হরিসভার ৫০টি বসতবাড়ি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এখন হুমকির মুখে হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্স এবং আশপাশের ২ শতাধিক বসতবাড়ি।
স্থানীয় বাসিন্দা সহদেব সাহা জানান, গতবছর মৌসুমের এই সময় নদী তীর দেবে যেতে শুরু করে। তখন তীর রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু পরে তা বন্ধ রাখা হয়। এখন আবার ভাঙন দেখা দেয়ায় বালিভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। বর্ষার সময় এমন কাজ না করে যদি শুষ্ক মৌসুমে করা হতো তা হলে টেকসই কাজ হতো।
একই এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ নির্মলা সাহা বলেন, তার পূর্বপুরুষের বসতভিটা সবই এখন নদীতে। সব হারিয়ে পাশে আশ্রয় নিতে পারলেও এই বর্ষায় তাও হুমকির মুখে পড়েছে।
চাঁদপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার জানান, হরিসভা এলাকার পৌনে ৪০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণে ইতোমধ্যে ৯৩ হাজার বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে। ফের ভাঙন রক্ষায় প্রয়োজনে আরো বস্তা ফেলা হবে।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে উত্তরের পানির চাপ এবং দক্ষিণের জোয়ারের প্রভাবে মেঘনা নদীতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সদর উপজেলার হানারচর, ইব্রাহিমপুর, রাজরাজেশ্বর এবং হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নদীপাড় ভাঙতে শুরু করেছে।
০৮ জুলাই, ২০২০।
