চাঁদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ

শাহ আলম খান

dav

চাঁদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন সাবেক মেয়র নাসির উদ্দিন আহমেদ। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় রিকশাযোগে চাঁদপুর পৌরসভা আসেন নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল। চাঁদপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ নবনির্বাচিত মেয়রকে পৌরসভার রাস্তার দু’দিকে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় চাঁদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র কার্যালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রায় ১৫ বছর চাঁদপুর পৌরসভার নেতৃত্ব দিয়েছি। ১২৫ বছরের বয়স্ক চাঁদপুর পৌরসভায় আগের চেয়ারম্যানদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আজকের এ প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। আমি কি উন্নয়ন করেছি, তা আপনারা জানেন। তবে আমি চাঁদপুর পৌরসভার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি। ৮ কিলোমিটারের চাঁদপুর পৌরসভাকে ২২ কিলোমিটার করেছি। চাঁদপুর পৌরসভার এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। চাঁদপুর পৌরসভা এখন প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এই পৌরসভাকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। আমি আশাবাদী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলের নেতৃত্বে চাঁদপুর পৌরবাসীর সেই কাক্সিক্ষত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিবে। আমি মেয়র থাকাকালীন সময়ে পৌরবাসীর জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা রেখেছি। মানুষকে সেবা দিয়েছি। এই পৌরসভার আয় বৃদ্ধি করেছে। চাঁদপুর পৌরসভার হাতে লেনদেন বন্ধ করেছি। সব নাগরিক সেবা ডিজিটাল করেছি।
এসময় তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, এই পৌরসভায় একদিন মেয়র হিসেবে শপথ নিয়ে কাজ শুরু করেছি সেই দিনটি ছিলো আমার জীবনের ঐতিহাসিক দিন। আজ সেই পৌরসভা থেকে বিদায় নিচ্ছি। আপনারা সবাই মিলে জুয়েলকে সহযোগিতা করবেন।
এসময় নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, আমি শুরুতেই স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে সেসব শহীদদের প্রতি। চাঁদপুর পৌরসভার যেসব চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। চাঁদপুর পৌরসভা একটি প্রতিষ্ঠান এখানে জনপ্রতিনিধিরা আসবে যাবে। কিন্তু আপনারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই প্রতিষ্ঠানের থাকবেন। আগের জনপ্রতিনিধিরা চাঁদপুর পৌরসভার উন্নয়নের কিছু না কিছু করেছেন। যার ফল চাঁদপুর পৌরসভা এখন প্রথম শ্রেণির।
চাঁদপুর পৌরসভার সততা ও নিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো আপোস করা হবে না। আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নাসির ভাই চাঁদপুর পৌরসভার মেয়রের বাইরেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, আমাদের অভিভাবক। আমি দলের প্রতি সবসময় আস্থাশীল। চাঁদপুর পৌরসভার অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে আমি সব সময় তাঁর সাথে পরামর্শ করবো। চাঁদপুর পৌরসভা একটি পরিবার। আমরা একটি পরিবারে সবাই আবদ্ধ হলাম। এ প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও নিয়ম-কানুনকে আমি প্রাধান্য দিবো। সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে চাঁদপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে রূপান্তরিত করবো।
আলোচনা সভায় চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন হাওলাদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার সচিব আবুল কালাম ভূইয়া, ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অ্যাড. হেলাল হোসাইন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আয়েশা রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএম শামসুদ্দোহা, ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুল মালেক শেখ, ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল লতিফ গাজী, ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুনুর রহমান দোলন, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সোহেল রানা, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সফিকুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ডের চাঁন মিয়া মাঝি, ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইউনুছ সোয়েব, ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন বাবু পাটোয়ারী, ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান দর্জি, ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আলমগীর গাজী, ১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. খাইরুল ইসলাম নয়ন ও ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অ্যাড. মো. কবির হোসেন চৌধুরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর ফেরদৌসী আক্তার, খালেদা বেগম, ফরিদা ইলিয়াছ ও শাহীনা বেগমসহ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
২৬ অক্টোবর, ২০২০।