মতলব উত্তরে পুলিশ পিকআপের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতির চেষ্টা

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তর উপজেলায় পুলিশের পিকআপের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতির চেষ্টা করেছে একদল ডাকাত। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। পালিয়েছে আরও বেশ কয়েকজন ডাকাত। পুলিশ ৫ রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করে। গুলির শব্দে স্থানীয়দের ঘুম ভাঙ্গে। এলাকাবাসী ছুটে এসে ৩ ডাকাতকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের গালিমখাঁ মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আটক হওয়া ডাকাতদের কাছ থেকে বেশকিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটকরা হলেন- মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর বাগবাড়ী গ্রামের মুখলেছের ছেলে শুভ (২৬), নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার সোনারগঞ্জ মাধবদী গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে সফিক (২৮) ও মতলব উত্তরের দশানি গ্রামের তফাজ্জলের ছেলে মোস্তফা (৩২)। আটক হওয়া ডাকাতদের কাছ থেকে শর্টগান, ছুরি ও ২টি ধাড়ালো দাসহ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এরা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তর থানার ওসি নাছির উদ্দিন মৃধাসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা রোববার ভোরে গাড়ি নিয়ে ইলিশ সংরক্ষণ ও দুর্গাপুজা উপলক্ষে এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টহল দিচ্ছিলেন। এসময় এসআই মনিরুল ইসলাম গালিমগাঁ মসজিদের সামনে পৌঁছালে সাধারণ যানবাহন ভেবে ডাকাতরা গাছের গুঁড়ি ফেলে। কিন্তু পুলিশ দেখে ডাকাতরা দৌঁড়ে পালানো চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ শর্টগানের গুলি ছুড়লে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। এতে গণপিটুনির শিকার হয় তিন ডাকাত।
ওসি নাসিরউদ্দিন মৃধা আরও জানান, ঘটনার পরপর বেশ কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যায়। তবে এই তিনজনের কাছ থেকে একটি সার্টারগান, দুই রাউন্ড গুলি এবং তিনটি রামদা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হওয়া ডাকাতরা স্বীকার করেছে, তারা সাধারণ মানুষের গাড়ি ভেবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সড়কে গাছ দিয়ে অবরোধ করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, গণপিটুনির শিকার তিন ডাকাতকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ওসি নাছির উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
দুপুরে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিন মৃধা ব্রিফিং করে ঘটনার বিবরণ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজাহান কামাল, এসআই মহিউদ্দিন, এসআই নাহিদ প্রমুখ।
২৬ অক্টোবর, ২০২০।