
চাঁদপুর পৌরসভা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে
……………………….পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ
এস এম সোহেল
চাঁদপুর পৌরসভার ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৯১ কোটি ৬৪ লাখ ২৪ হাজার ২শ’ ৩২ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নিচতলার হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ এ বাজেট ঘোষণা করেন।
পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, আমি ১৪তম বাজেট করছি। আগামি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পৌর পরিষদের মেয়াদ আগামি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। এটি’ই আমার শেষ বাজেট। সীমিত সময়ের মাঝে সর্বাত্মক সেবা নগরবাসীকে দেয়ার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে পরিষদ চাঁদপুর পৌরসভার এমন অবস্থা ছিল না। আরও খারাপ অবস্থা ছিল। আমরা পরিষদের অনেক উন্নয়ন করেছি। আমরা পৌরসভার মাধ্যমে শহরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছি। বর্তমান সরকার নিরাপদ খাদ্য সহায়তা করছে। সরকারের সবার খাদ্য নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা ব্রিটিশ আমলের প্রতিষ্ঠান। স্বাধীন দেশ পরিচালনার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সরকার আমাদের তা দিয়েছে। পাকিস্তানিরা যখন এদেশ থেকে চলে যায় তখন অনেক কিছুই ধ্বংস করে দিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু যখন এদেশকে উন্নত দেশের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তখনই আন্তর্জাতিক চক্র স্বপরিবারে তাকে হত্যা করে।
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর পৌরসভায় এসে আগে নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়তে হতো। কিন্তু এখন ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। সবকিছুই চাঁদপুর পৌরসভায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। চাঁদপুরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা কাজ করেছি। ভালোর কোন শেষ নেই, আরও ভালো করতে হবে। তবুও আমরা আমাদের স্বাধ্যমত চেষ্টা করেছি। আমাদের আরও অনেক দূর এগোতে হবে। একটি আধুনিক, নিরাপদ, মাদকমুক্ত শহর গড়ে তুলতে হবে।
পৌর মেয়র আরো বলেন, আমরা রাজনীতি করি জনগণের সেবা ও দেশের উন্নয়নের জন্যে। আমাদের দল, মত, গোষ্ঠি ও বর্ণ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হলো পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়ন ও পৌরবাসীকে সুষ্ঠু সেবা প্রদান করা। যার ফলশ্রুতিতে পৌরবাসীর সহযোগিতায় চাঁদপুর পৌরসভাকে মর্যাদাশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। পৌরসভার উন্নয়নে আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে নগর সমন্বয় কমিটি (টিএলসিসি) করেছি। প্রতি মাসে এই কমিটির একটি করে সভা হয়। এই সভার মাধ্যমে সবার মতামত নিয়ে আমরা কর্মনির্ধারণ করি। যার ফলে চাঁদপুর পৌরসভায় এখন দুর্নীতি নাই বললেই চলে। চাঁদপুরের সব রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। শহরে এখন কোনো জলাবদ্ধতা নেই।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রত্যেকটি মানুষ গড়ার জন্য চাঁদপুর পৌরসভা কাজ করছে। গত বছরের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি বাজেট আজ ঘোষণা দিয়েছে। হয়তো আগামিতে আরো বেশি বাজেট ঘোষণা দিবে। চাঁদপুর পৌরসভা নাগরিকদের সেবা দিয়ে যাবে। আগামিতে সিটি কর্পোরেশন করতে এই কর্তৃপক্ষ আরো কাজ করবে।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু তাঁর বক্তব্যে বলেন, নাছির উদ্দিন আহমেদ ১৪ বছর ধরে চাঁদপুর পৌরসভার দায়িত্বে আছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ করার যে ঘোষণা দিয়েছে সেই কাজ করা হচ্ছে। ২০০৮ সালে চাঁদপুর পৌরসভার আয়তন ছিল মাত্র ৯ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে তার পরিধি বৃদ্ধি করে ২২ বর্গ কিলোমিটার করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন করার জন্য ৫৭ বর্গ কিলোমিটার প্রয়োজন। চাঁদপুর পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাট আরও প্রশস্ত করতে হবে। তাহলে আমরাই এর সুফল ভোগ করব। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করে। আমরা সচেতন হলে এই শহর আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন হাওলাদারের পরিচালনায় আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন, বিএম হান্নান, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা, সোহেল রুশদী, জিএম শাহীন, মির্জা জাকির।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্যাব সভাপতি জীবন কানাই চক্রবর্তী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, পৌরসভার সচিব আবুল কালাম ভূঁইয়া, নির্বাহী প্রকৌশলী এইচএম শামসুদ্দোহা, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আ. রব, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌর কর্মচারী সংসদের সভিপতি আ. রশীদ সর্দার, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, কাজী শাহাদাত, শাহ্ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, শরীফ চৌধুরী, দৈনিক ইল্শেপাড়ের প্রধান সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুলসহ পৌরসভার সব কাউন্সিলর, কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা।
বাজেট অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের সরকার প্রদত্ত উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী ও বিশেষ মঞ্জুরী ৫ কোটি টাকা, অডিটরিয়াম নির্মাণে ১০ কোটি টাকা, শিশু পার্ক নির্মাণে ৫ কোটি টাকা, পৌর ভবন সম্প্রসারণ খাতে ১ কোটি টাকা, পৌরসভার প্রধান প্রধান খাল সংস্কার ও ভূমি অধিগ্রহণে ২ কোটি টাকা, ইউজিআইআইপি প্রকল্পে-৩ এ ২ কোটি টাকা, জলবায়ু পরিবর্তনে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, অতি গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ণ-২ এ ৫ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ৯১ কোটি ৬৪ লাখ ২৪ হাজার ২শ’ ৩২ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। প্রাক্কলিক ব্যয় হিসেবে সমপরিমাণ অর্থ দেখানো হয়েছে।
৩০ জুন, ২০১৯।
