চাঁদপুর পৌরসভায় ৩ মাসে সাড়ে ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে

শাহ্ আলম খান
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেছেন, এ বছর চাঁদপুর পৌরসভার কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে চাঁদপুর পৌর এলাকার উন্নয়নে এ এলাকা থেকে ৩ কোটি টাকার আয় বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া ১ কোটি টাকার ব্যয় কমানো হবে বলে পরিকল্পনা নিয়েছি।
তিনি বলেন, পৌরসভার ৫৭ কোটি টাকার দেনা কাঁধে নিয়ে আমি পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। গত ৩ মাসে সাড়ে ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, চাঁদপুর পৌর এলাকায় নান্দনিক নির্ভর পর্যটন কেন্দ্র গড়ার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোকজনের কারণে বেতনের উপর প্রভাব পড়ছে। পৌরসভার আওতাধীন বিদ্যুতের মিটার ছিল ৮০টি। তার সবগুলো ছিল পোস্টপেইড মিটার। যা প্রয়োজনের চাইতে বেশি, আমি ৪২টি মিটারের বকেয়া পরিশোধ করে বন্ধ করে দিয়েছি। এতে সিস্টেসলস্ কিছুটা হলেও বন্ধ হয়েছে। এখন চলমান রয়েছে ৩৮টি মিটার। মিটারগুলো পৌরসভা, পৌর পাঠাগার, ৪টি বিদ্যালয় ও মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার হতো।
গত সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলের সাথে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি ঐ কথাগুলো বলেন।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলের দায়িত্ব গ্রহণের ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ায় তিনি এ ৩ মাসের উন্নয়ন ও আগামিদিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বিস্তারিত তুলে ধরে আলোচনা করেন।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশার পরিচালনায় ও ইকবাল হোসেন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন পৌরসভার সচিব মো. আবুল কালাম ভূঁইয়া, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মফিজ উদ্দিন হাওলাদার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, অধ্যক্ষ মো. জালাল চৌধুরী, শরীফ চৌধুরী, শহীদ পাটওয়ারী, সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন ও সোহেল রুশদী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ্, লক্ষন চন্দ্র সূত্রধর, যুগ্ম-সম্পাদক মো. আবদুল আউয়াল রুবেল, শওকত আলী, নির্বাহী সদস্য মো. মনির চৌধুরী, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল-ইমরান শোভন, সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াদ ফেরদৌস, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একে আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কেএম মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তালহা জুবায়ের, দৈনিক আলোকিত চাঁদপুরের সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, আশিক-বিন রহিম প্রমুখ।
মেয়র আরো বলেন, আমি চাঁদপুর পৌরসভার দায়িত্ব নেয়ার পর তিন মাসের বেতনের কোন বকেয়া রাখি নাই। আগের বেতন বকেয়া রয়েছে। ২৩০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী এখন থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন গ্রহণ করবে, এতে ব্যাংককে কোন সার্ভিস চার্জ দিতে হবে না। এটি পৌরসভার জন্য একটি বড় অর্জন বলে মনে করি। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য শহরের স্বর্ণখোলায় ২০টি বহুতল ভবন করে সবাইকে একটি করে ফ্ল্যাট দেয়া ব্যবস্থা করা হবে। সব সনদ এখন থেকে অনলাইনে পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ১শ’ ২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌরসভায় কোন কনফারেন্স রুম ছিল না, আমার তিন মাসের কার্যকালে একটি আধুনিক কনফারেন্স রুম করতে পেরেছি। নকশা বহির্ভূত ভবন আর পৌরসভায় গড়তে দেয়া হবে না। যদি কোন বহুতল ভবন গড়েও ওঠে তাহলে তা ভেঙে দেয়া হবে। পৌর এলাকায় বিলবোর্ড স্থাপনে অনুমোদন রয়েছে- ১০ বাই ১০ ফুট। স্থাপিত বিলবোর্ডগুলো রয়েছে ২০ বাই ৪০ ফুট। এছাড়া অনুমোদন রয়েছে ৫টি, ব্যবহার করছে ১০টি। আমার নির্বাচনী ইশতেহার ছিল বিলবোর্ডহীন চাঁদপুর হবে। তবে পর্যায়ক্রমে তা হবে। চাঁদপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবা নিশ্চিতে কাউকে অফিসের রুমে-রুমে যেতে হবে না।
তিনি বলেন, তেলের খরচ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি। পানি শাখার কর্মচারীদের মাধ্যমে রিপেয়ারিংয়ের কাজ করছি। আগে তা ঠিকাদার দিয়ে করা হতো। পানি শাখা থেকে আমাদের আয় বিগত দিনে হয়নি। তাতে খরচ অনেক বেশি ছিল। পানি শাখার মাধ্যমে মাত্র তিন মাসে ১৫টি ওয়ার্ডে ৭৮৬টি অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেছে। তা’ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পৌরসভার ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করার চেষ্টা চলছে, তাতে অনেক খরচ পৌসভার কমে যাবে। এখন থেকে কাউকে মিথ্যা সনদ আর পৌরসভা দিবে না।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তরে মেয়র বলেন, চাঁদপুর শহরের ২টি লেককে সংস্কার হবে। শহরকে নান্দনিক রুপ দেয়া হবে। শহরের ছায়াবাণী এলাকায় অবস্থিত ময়লা-আবর্জনা রাখার স্থানটি (অনন্যা মার্কেট এলাকায়) আগামি ২ মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক অঙ্গীকারসহ সব স্থাপনা সংস্কার করা হবে। বিপণীবাগ বাজারটি সঠিক জায়গায় স্থাপন করা হবে। যারা ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের ট্যাক্স অবশ্যই দিতে হবে। শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। জায়গা নির্ধারণের কাজ চলছে। অবৈধ লাইসেন্সবিহীন সিএনজি ও অটোবাইককে শহরে ঢুকতে দেয়া হবে না। পানির লাইন ও ড্রেন যেখানে হবে না সেখানে কোন পাকা রাস্তা করা হবে না। শহরের সড়কগুলো সংস্কার কাজ অতিদ্রুত করা হবে। সব শেষ তিনি সততার সাথে ভাল কিছু করার চেষ্টা করা হবে বলে পৌরবাসীদের প্রতি আশ্বাস প্রদান করেন।
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।