চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন : মধ্য রাতেই শেষ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য রাতেই শেষ হচ্ছে আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণা। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েই প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন সমানতালে। তবে একবারেই শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছিলো প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা।
আগামি শনিবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে চাঁদপুর পৌরসভার ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৬ জন ভোটার। ভোটে মেয়র পদে ৩ জন মেয়র প্রার্থী আর কাউন্সিলর পদে ৫০ জন এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটেছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পৌরসভা গড়ার। ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে কেউ কেউ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রত্যেক প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে তাদের মধ্যে বেশ কিছু কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ তুলছেন, অদৃশ্য ইঙ্গিতে তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকজন বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়িয়েছেন।
এদিকে মেয়র পদে ৩ প্রার্থীই নিজেদের যোগ্য দাবি করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই তারা শেষ পর্যন্ত মেয়র হিসেবে বেছে নেবেন। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নেয়া ৩ জন প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল (নৌকা), বিএনপি’র আক্তার হোসেন মাঝি (ধানের শীষ) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মামুনুর রশিদ বেলাল (হাতপাখা)।
এদিকে শহরবাসী বলছেন, আজ মধ্য রাতের পর প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ার মাধ্যমে শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায় দেখা যাবে না স্লোগানমুখর মিছিল কিংবা প্রার্থীদের নির্বাচনী দৌঁড়-ঝাপ। তবে তারা আরো বলেছেন, নির্বাচনে যারাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে জয়লাভ করবেন, তারা যেন এই শহরের পরিবেশ রক্ষায় সব নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুনগুলো দ্রুত অপসারণ করেন। তাহলেই কেবল প্রকৃত অর্থেই তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন।
তবে ভোটের মাঠে প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগ মনোনীত তরুণ মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল ব্যাপক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও গণজমায়েতের আয়োজন করে পৌরবাসীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাঁদপুর পৌরসভার সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পৌরবাসীকে। তিনি চাঁদপুরকে একটি আধুনিক পৌরসভার গড়তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যানজট নিরসনসহ মৌলিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন মাঝি সমানতালে গণসংযোগ অব্যাহত রাখতে গিয়েও তিনি অভিযোগ তুলছেন প্রশাসনের দিকে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলাকালীন সময়ে তিনি ব্যাপক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় তার ব্যানার ও পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে। এছাড়া ইভিএম ভোটিং পদ্ধতির ত্রুটি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী। তবে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য প্রত্যেক ভোটারকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে পুরো নির্বাচনই যে ঝুঁকিপূর্ণও তাও তিনি বলছেন।
অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, ভোটে জয়লাভের মধ্যে দিয়ে তিনি পৌরবাসীর একজন খাদেম হিসেবেই থাকতে চান। পাশাপাশি পৌরবাসীর উপর করের বোঝা কমিয়ে জনবান্ধব পৌরসভা হিসেবে গড়তে চান চাঁদপুরকে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর করোনার কারণে কালক্ষেপণ হলেও শেষ পর্যন্ত আগামি শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ বছর পর চাঁদপুর পৌরবাসী পাবে নতুন একজন অভিভাবক।
আগামি শনিবার ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চাঁদপুর পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, কাউন্সিলর পদে ৫০ জন এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চাঁদপুর পৌরসভার ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৯ হাজার ২৭ জন এবং নারী ৫৮ হাজার ৮৫৯ জন। ১৫ ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র ৫২টি।
৮ অক্টোবর, ২০২০।