চাঁদপুর শহরে অটো ভাড়া বৃদ্ধিতে যাত্রীদের অসন্তোষ

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর শহরের অভ্যন্তরে যাত্রী চলাচলের অটো ভাড়া বৃদ্ধিতে যাত্রীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অটোভাড়া বৃদ্ধি কতোটা যৌক্তিক- তা নিয়ে প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা যেখানে প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধিকে তারা অস্বাভাবিক দাবি করছেন।
তবে অটো চালকরা বলছে, চাঁদপুর পৌরসভা তাদের যে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে তারা কেবল সেই ভাড়াই আদায় করছেন যাত্রীদের কাছ থেকে। যাত্রীদের অধিক ভাড়া দিতে সমস্যা হয় এটা যেমন সঠিক তেমনি সারা দিন অটো চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানো দায় বলে দাবি করছেন চালকরা।
এদিকে যাত্রীরা বলছেন, জীবন যাত্রা ও বাজারের সাথে মিল রেখে ভাড়া বৃদ্ধি যৌক্তিক তখনি যখন তা হবে ন্যয্যতার ভিত্তিতে। তার মানে ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নয়। ভাড়া বৃদ্ধি হলে ৫ টাকা স্থলে ৬-৭ টাকা হতে পারে। কিসের ভিত্তিতে ভাড়া দ্বিগুণ করা হলো তার ব্যাখ্যা যাত্রীদের কে দিবে। যাত্রীরা বলছে, বর্তমান সময়ে কেউ আর পায়ে হেটে এখান থেকে অন্যত্র যাচ্ছে না। ফলে ছোট বড় সবাই এখন অটো দিয়ে চলাচল করছে।
এতে করে শহরে হাজার হাজার অটো চালকদের ভিড়ে যানজট এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শহরে অটোর সংখ্যা যেমন সীমিত করা প্রয়োজন, তেমনি নির্ধারিত ডাবল ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন যাত্রীরা। এখনই যদি তা নির্ধারণ করা না হয়; তাহলে শহরে অটো ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আরো অটো শহরে প্রবেশ করবে। তখন পরিস্থিতি সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
এদিকে অটো চালকরা দাবি করছে, পৌরসভার একটি অটো শহরে চলাচলের জন্য লাইসেন্সের জন্য যে পরিমাণ ফি ধার্য করছে বা আদায় করছে- তা অন্যায্য। দেশে কর্মসংস্থান না থাকা ও বিদেশে সহজে ভিসা না পাওয়ায় এখন যুবকরা কর্মসংস্থানের বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র পেশা হিসেবে অটোচালকের মতো পেশাকে মেনে নিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়াচ্ছে। যা অনেক সময় যাত্রীদের সাথে ভাড়া নিয়ে বাকবিন্ডতায় জড়িয়ে নিজেদের অসাহায়ত্বকে সামনে নিয়ে আসতে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে অটো চালকরা দাবি করছেন, সামাজিক পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌরসভার নির্ধারিত ভাড়াই যাত্রীরা প্রদান করলে তারা আজকের উর্ধ্বগতির বাজারের সাথে মিল রেখে জীবনযাত্রাকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষ কোথাও কোথাও ভাড়া দ্বিগুণ করা হয়েছে এটা চালকরা স্বীকার করেন।
এদিকে শহরের বাসিন্দারা বলছেন, যানজটমুক্ত পৌরসভা উপহার দেওয়া পৌর কর্তৃপক্ষের অঙ্গীকার। এখন কে রাখছে কার কথা? এমন দাবি তাদের। প্রতিদিনই অটোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা দৃশ্যমান হচ্ছে। পাশাপাশি এসব অটোর লাইসেন্স দিয়ে শহরের পরিবেশকে যানজটের শহরে পরিণত করার কাজটা মূলত পৌরসভাই করছে দাবি শহরবাসীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর পৌরসভা অটো মালিক ও চালক সমিতির পরামর্শক্রমে নিম্নভাড়া নির্ধারণ করেন; যা যাত্রীদের জন্য এখন অযৌক্তিক হয়ে পরছে, শহরের শপথ চত্বর (কালী বাড়ি মোড়) হতে মাতৃপীঠ মোড়, সদর হাসপাতাল, মডেল থানা, পাল বাজার মোড়, কলেজ গেট, চিত্রলেখা মোড়, বিপণীবাগ, ছায়াবাণী মোড় ৫ টাকা। এখান থেকেই বড় স্টেশন, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকরোড, চেয়ারম্যান ঘাট, ডিসি অফিস, ঘোলঘর ১০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমনিভাবে বড়স্টেশন হতে, লক্ষ্মীপুুর হতে, বাগাদি চৌরাস্তা হতে, পাল বাজার হতে, মৈশাদি হতে, ওয়্যারলেছ বাজার হতে, মিশন রোড়ের মোড়, পুরানবাজার মেয়র রোড়, লঞ্চ ঘাট হতে, নতুন বাজার হতে, লোহারপুল হতে, রঘনাথপুর ও দোকানঘর হতে আলাদা আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যাত্রীদের ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি বলে সাধারণ যাত্রীরা দাবি করছেন। শহরের শপথ চত্বর (কালী বাড়ি মোড়) হতে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকাকে অধিকতর অযৌক্তি দাবি যাত্রীদের। কারণ শহরের এই দুই স্থানে শিক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ীরা দিনে একাধিকবার যাতায়াত করতে হয়। যার কারণে কিলোমিটারে ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও এই দূরত্বে ৫ টাকার বেশি ভাড়া হয় না বলে যাত্রীরা দাবি করছেন।
সাধারণ যাত্রীরা দাবি করছেন, চাঁদপুর পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত নজরে নিয়ে পরিস্থিতি আলোকে অটো ভাড়া নির্ধারণ করলে সবার জন্য মঙ্গল হবে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত অটো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে যানজটমুক্ত পৌরসভা গড়ে তুলতে আন্তরিকতার পরিচয় দিবেন।

২৪ অক্টোবর, ২০২২।