চাঁদপুর শহরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভূমি উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরের কালিবাড়ি মোড়ে ইস্টার্ন লাইব্রেরী চাঁদপুর প্রেস ও সাগরিকা স্টোর দখলের উদ্দেশে রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে টিনের বেড়া নির্মাণ করে প্রতিপক্ষ রাজু বেপারী গং। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোরে সেই জায়গা দখলের জন্য টিনের বেড়া দেয়া হয়। পরে ঐ ভূমির বৈধ মালিক, জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লিজ গ্রহীতা মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে জানান। রোববার (৬ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে লিজ গ্রহীতা মুক্তিযোদ্ধা মনির আহমেদ ও আনিসুর রহমান খানকে তা বুঝিয়ে দেয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জেলা প্রশাসকের পক্ষে উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলদার রাজু বেপারীদের দেয়া টিনের বাউন্ডারী অপসারণ করে লিজে থাকা মুক্তিযোদ্ধা মনির আহমেদকে তা বুঝিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অসীম কুমার বণিক, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরান হেসেন সজিব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম, পিপি অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী, এপিপি অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, জেলা স্কাউটস্ কমিশনার অজয় কুমার ভৌমিক, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ পাটোয়ারি ও কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. শাহ আলমসহ পুলিশ সদস্যরা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, (ক) তফসিল ভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি ৩৭০৫০নং গেজেটভুক্ত ৫/৮৩-৮৪নং ভিপি লিজের এসএ ৯১নং মিউসিপাল্টি মৌজাস্থিত ২০৫১নং খতিয়ানের ৫৯০৮ দাগ ভুক্ত ০.০৭৩১ একর ভূমি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে লিজকৃত। মনির আহমেদ দীর্ঘ বছর ধরে ২.৫৮ শতাংশ সম্পত্তি লিজ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কে বা কারা যেন তা দখলের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে দখল করে টিনের বাউন্ডারী দিয়েছিল। আমরা তা জানতে পেরে দখলদার উচ্ছেদ করে লিজ গ্রহিতা মনির আহমেদকে বুঝিয়ে দিয়েছি।
মনির আহমেদ জানান, তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে দোকানটিতে লাইব্রেরী ও ছাপাখানার (প্রেসের) ব্যবসা করে আসছেন। এ বিষয়ে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনালে ৪২৪/১২ মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কেউ ওই সম্পত্তি দখল করতে পারে না। ওই সম্পত্তি (ক) তফসিলভুক্ত হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে জেলা প্রশাসকের আওতাধীন।
রাতের অন্ধকারে জোর করে এই সম্পত্তি দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি আরো জানান, জেএম সেনগুপ্ত রোড ইস্টার্ন লাইব্রেরী, চাঁদপুর প্রেস, সাগরিকা কনফেকশনারী ৭.৩১ শতাংশ জায়গা স্থাপনার মধ্য মনির আহমেদের দখলে ২.৫৮ শতাংশ জায়গা ও সাগরিকার .৫৮ শতাংশ জেলা প্রশাসকের লিজপ্রাপ্ত। আদালতের রায় হওয়ার আগেই জোরপূর্বক দখল করা হচ্ছে। এই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি (ক) তফসিলের জায়গা এবং গেজেটভুক্ত। তারা যদি হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের রায় পেয়ে থাকে তাহলে কোর্টের মাধ্যমে সেই জায়গা জেলা প্রশাসক দখল বুঝিয়ে দেবে। এই মর্মে আদালতে চলমান মামলার সিদ্ধান্ত নতমস্তকে মানতে বাধ্য থাকা অঙ্গীকারনামা রয়েছে। তার আগে সেই সম্পত্তি দখল করতে গেল কেন? বেআইনিভবে গায়ের জোরে গুলশান আরা বেগম গং রাজু বেপারী জোরপূর্বক সেই জায়গা দখলের জন্য টিনের বেড়া নির্মাণ করেছে।
০৭ ডিসেম্বর, ২০২০।