স্টাফ রিপোর্টার
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চাঁদপুর শহর ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে বসতঘর এবং সড়কের ওপরে পড়ে। গ্রামাঞ্চলে গত রোববার দিনগত রাত থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি উপজেলা পর্যায়ে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যায়ও আছেন অধিকাংশ গ্রাহক।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে আবহাওয়ার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। সকাল ১০টার পর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়। গত সোমবার বেলা ১১টায় চাঁদপুর-ঢাকার মধ্যে বন্ধ হওয়া লঞ্চ চলাচল শুরু হয় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায়।
চাঁদপুর তিন নদীর মোহনা সিত্রাংয়ের প্রভাবে সবচাইতে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে সেখানে বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল।
এদিকে সোমবার রাতে ঝড়ের প্রভাবে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১,৮৭০ জন উপকূলীয় এলাকার সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নেয়। তারা আজ সকালে নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় রোববার রাত থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ। হাইমচর উপজেলায়ও একই অবস্থা। হাজীগঞ্জে বিদ্যুৎ নেই এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে সমস্যায় আছেন গ্রাহকরা। কচুয়া, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। ঝড়ের প্রভাবে গাছের ডাল-পালা ভেঙে পড়েছে বসতবাড়ি ও সড়কে। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
চাঁদপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং সিনিয়র সহকারী কমিশনার সুচিত্র রঞ্জন দাস জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাক্তিদের সহায়তা করার জন্য জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা হতে জেলার ৮ উপজেলার নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা এবং ১৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে জেলায় বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কে গাছের ডাল-পালা ভেঙে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সেগুলো অপসারণ করায় সড়ক স্বাভাবিক হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে চাঁদপুর-ঢাকা, চাঁদপুর-কুমিল্লাসহ সব রুটে বাস চলাচল শুরু করেছে।
চাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শোয়েবুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেন রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ঘূর্ণিঝড়ে লাইনে গাছ ও ডাল ভেঙে পড়ায় আসতে দেরি হয়। রাত ১টা ২৫ মিনিটে এসে চাঁদপুর স্টেশনে পৌঁছে মেঘনা এক্সপ্রেস। তবে যাত্রীদের কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। কারণ ঝড়ের সংবাদ পেয়ে বরিশালের কোন যাত্রী এই ট্রেনে আসেনি। গতকাল মঙ্গলবার যথারীতি ভোর ৫টায় ট্রেনটি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাড়ার পর থেকে আমরা শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম। সারা রাত আমাদের কোন কর্মকর্তা ঘুমায়নি। গতকাল সন্ধ্যায় পানির উচ্চতা বাড়লেও আজ স্বাভাবিক। শহর রক্ষা বাঁধও শঙ্কামুক্ত।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, ঝড়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল লাইনের ওপর ভেঙে পড়ে। যে কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। আজ সকাল থেকে সব সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ লাইন চেক করা হচ্ছে। শহরের কিছু কিছু লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবস্থা স্বাভাবিক হবে।
২৬ অক্টোবর, ২০২২।
