স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের এনায়েতনগর (শেখের হাট) সুবল চন্দ্র দাসের বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনাটি ঘটে।
অগ্নিকান্ডে স্টিলের আলমিরা, স্টিলের সোকেস, একটি খাট, দুটি চৌকি, একটি ডাইনিং, ড্রেসিং টেবিলসহ দোচালা ২টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। অগ্নিকান্ডের সময় ঘরে কেউ না থাকায় কেউ হতাহত হয়নি।
জানা যায়, ঘটনার সময় সুবল দাসের পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলো না। সবাই সুবল দাসের নাতনী শ্রদ্ধার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য বাবুরহাট ছিল। রাতে স্থানীয়দের দেয়া খবরে তারা বাড়িতে আসার পূর্বেই ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সুবল দাস ও তার স্ত্রী অবসর এবং তাদের একমাত্র ছেলে সজিব দাস চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার সমিতিতে কাজ করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছিলো।
প্রত্যক্ষদর্শী মেহেরাজ ভূঁইয়া বলেন, বাড়ির চারদিকে আগুন দেখে স্থানীয়রা মিলে আমরা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে আগুনের সূত্রপাত দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হলে দমকল কর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
সুবল দাসের ছেলে সজিব দাস বলেন, ঘরে থাকা ৩ ভরি স্বর্ণ, বেতনের পাওয়া ১৫ হাজার টাকা, বাড়ির মূল্যবান কাগজপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, আমার এসএসসি, এইচএসসি ও গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেটসহ সকল মূল্যবান কাগজপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সুবল দাসের স্ত্রী মহারানি দাস জানায়, অগ্নিকান্ডে স্টিলের আলমিরা, স্টিলের সোকেস, একটি খাট, দুটি চৌকি, একটি ডাইনিং, ড্রেসিং টেবিলসহ দোচালা ২টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার খবরশুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আলমগীর গাজী। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলকে বিষয়টি জানিয়েছি।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (উত্তর) সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল আলম আমিন বলেন, আমরা রাত ২টা ৫০ মিনিটে খবর পেয়ে ৩টা ৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌছাই। আমার নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে যায় এবং দীর্ঘ ৩০ মিনিট চেষ্টার পর দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিন্তু আমরা দেরিতে সংবাদটি পেয়েছি। এর আগেই ঘরটির পুড়ে যায়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২।
