চাঁদপুর সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপে দিশেহারা চিকিৎসকরা

৩১ বেডে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে ১৭৪ শিশু রোগী

স্টাফ রিপোর্টার
আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীদের চাপে দিশেহারা চিকিৎসকরা। হাসাপাতালে ৩১ বেডে ১৭৪ শিশু রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা এবং বেড দিতে হিমশিম খাচ্ছে। চিকিৎসকরা উপায়ন্তর হাসপাতালের ফ্লোর ও বারান্দায় বেড দিয়ে সেবা দিচ্ছে।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গরম আবহাওয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীদের সংখ্যা। বর্তমানে ১৭৪ শিশু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বিভাগে কর্তব্যরত নার্সরা। এদের মধ্যে জ্বর, ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে।
গত শনিবার ১২ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৬ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০/৬০ শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। পুরো শিশু ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট বেডের চেয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা চার গুণ বেশি। বিছানা সংকটে হিমশিম খাচ্ছে রোগী ও রোগীর লোকজনসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগী চাপ বেশি হওয়ায় হাসাপতালের ফ্লোর ও বারান্দায় ঠাই হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর জেলা শহরে গত কয়েক দিনে হঠাৎ প্রচন্ড গরম আবহাওয়ার কারনে বয়োবৃদ্ধসহ শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন দিনে হাসপাতালে প্রায় দুই শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের শিশু বিভাগে প্রচুর রোগী ভর্তি রয়েছে। বিছানা সংকটে হাসপাতালের করিডোর এবং বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। যেখানে শিশু ওয়ার্ডে বিছানা সংকট রয়েছে সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭৪।
জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে সর্বমোট ১৭৪ জন শিশু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে গত ১২ ঘন্টায় ২৬ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চেয়ে আরো বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বিছানা সংকটে হাসপাতালের করিডোর এবং বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। তারা পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এসব শিশু রোগীদের মধ্যে একমাস বয়স থেকে শুরু করে ৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। তারা গরম আবহাওয়ায় ঘামানোর কারণে জ্বর এবং ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের চাপে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কোথাও ঠাঁই নেই। শিশু ওয়ার্ডের সবকটি বিছানা পরিপূর্ণ হয়ে মেঝেতে ও রোগীদের জন্য বিছানা পাতা হয়েছে। এসব রোগীরা জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, খিচুনী এবং নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া অনেক শিশু রোগীকে অভিভাবকরা হাসপাতালে নিয়ে এসে ডাক্তার দেখিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী রেজিস্টার (শিশু) ডা. মাহাবুব আলী খানসহ শিশু বিশেষজ্ঞ কয়েকজন চিকিৎসক জানান, প্রচন্ড গরমে শিশুরা ঘামানোর কারণে তারা জ্বর, সর্দি এবং ঠান্ডাজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। প্রচন্ড গরমে তাদের শরীর ঘামিয়ে ভাইরাল ইনফেকশন ও ভাইরাল দূষণের কারণে বেশি সমস্যায় পড়ছে। এ কারণেই শিশুরা জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, প্রচন্ড গরম আবহাওয়ার কারণে বয়োবৃদ্ধ এবং শিশুরা হঠাৎ, জ্বর, সর্দি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাই গত বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে শিশু রোগীদের প্রচুর চাপ দেখা দিয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২।