চাঁদপুর সফরমালী গোহাটে সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষিত

সজীব খান
চাঁদপুরের একমাত্র সরকারি ইজারাবিহীন সফরমালী গোহাটে সোমবার সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষিত হয়ে গরু বেচাকেনা হচ্ছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিয়ে চলাচলের কথা থাকলে ও সফরমালী গোহাটে গাদাগাদি করে সোমবার (২৮ জুন) ক্রেতা-বিক্রেতা চলাচল করছে।
আশপাশের যারাই গতকালের বাজারে এ বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেছে তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে। সরকারের নিদের্শনা উপেক্ষা করে বাজার কিছু গরুর বেচা-কেনার ব্যবস্থা রাখায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি ইজারাহীন এ গোহাটে দেশের এ চরম সময়ে সামাজিক দূরত্ব না থাকায় এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। সামাজিক দূরত্ব নিয়ে চলাচলের উপর জোর দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সফরমালী গোহাটের কর্তৃপক্ষ যেন উদাসীন হয়ে বিখ্যাত গোহাট পরিচালনা করছে। সপ্তাহের প্রতি সোমবার সরকারি ইজারাবিহীন এ গোহাট বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে ক্রেতা বিক্রেতা এখানে গরু ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য আসে।
এখানে গরু বেচা কেনার সুযোগ বেশি থাকায় ক্রেতা বিক্রেতা এবং বিভিন্ন যানবাহন চালকদের উপচেপড়া ভীড় থাকে। প্রতিযোগিতার এ হাটে করোনা কি, লকডাউন কি, সব কিছুই যেন ছেলেমানুষী। নিজের ইচ্ছেমত সবাই চলাচল করেছে। অনেকে মুখে মাস্ক দিয়ে থাকলেও গাদাগাদির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থেমে থাকেনি। সরকারের নির্দেশনা যেন এখানে প্রশ্নবিদ্ধ। ইজারাহীন এ বাজার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জমজমাট হয়ে উঠেছে। নদী ও সড়ক পথের দুই দিকের যাতায়াতের সুন্দর ব্যবস্থা থাকায় ক্রেতারা এখানে বেচাকেনা করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। বাজারের হাসিল নির্দিষ্ট থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকে।
সরকার করোনার মহামারী থেকে দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের জন্য সরকারের মহতি উদ্যোগ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। আসছে সামনে কোরবানি ঈদ, এ ঈদকে সামনে রেখে সফরমালী গোহাটে গরুর সর্ববৃহৎ বাজার বসবে। করোনার এ সময়ে সফরমালী গোহাটে সামাজিক দূরত্ব না থাকলে করোনা নিয়ে সফরমালীসহ চাঁদপুরের মানুষের মাঝে চরম আতংক নিয়ে থাকতে হবে। তাই সফরমালী গোহাটে যেন সামাজিক দূরত্ব ঠিক রেখে করোনার এ সময়ে বাজার পরিচালনা কর্তৃপক্ষ বাজার পরিচালনা করে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য এলাকাবাসী তাদের প্রতি অনুরোধ করেছে। বিষয় গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের কাছে এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছে।

২৯ জুন, ২০২১।