হাজীগঞ্জ বাজার ছাড়া অন্যান্য এলাকা ছিলো স্বাভাবিক
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে পালিত হয়েছে সরকার ঘোষিত সীমিত পরিসরের লকডাউনের প্রথম দিন। সোমবার (২৮ জুন) দিনব্যাপী দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহণ বন্ধ থাকলে হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার বাইরে অর্থাৎ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ছোট যানবাহন ও বাজারের দোকান-পাট খোলা ছিল।
এদিন হাজীগঞ্জ বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে দুরপাল্লার যানবাহনসহ গণ-পরিবহন বন্ধ ছিল। রাস্তায় মানুষের চলাচলও ছিল সীমিত। বাজারের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে পুলিশ চেকপোস্ট। এসব চেকপোস্ট থেকে বাজারমুখী মানুষ এবং যানবাহনের গতিরোধ করে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
দুপুরে লকডাউন বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতায় হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও মাস্ক পরিধান না করায় তিনি ৬ মামলায় ৬ জনকে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন এবং ব্যবসায়ী, পথচারীসহ বাজারে আসা জনসাধারণকে দিক-নির্দেশনা ও নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য ছাড়া খোলাকৃত অন্যান্য দোকান-পাটগুলো বন্ধ করে দেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লকডাউন কার্যকর করতে দিনের শুরুতেই চেকপোষ্ট বসিয়ে রামগঞ্জমুখী হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ, চাঁদপুরমুখী হাজীগঞ্জ-চাঁদপুর সড়কের হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে মান্নান ফিলিং ষ্টেশানের সামনের চেকপোষ্টে ছিলেন, অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।
অপরদিকে কচুয়ামুখী হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরিপুর সড়কে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল এবং কুমিল্লামুখী হাজীগঞ্জ-কুমিল্লা সড়কের হাজীগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের সম্মুখে থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা ও উপ-পরিদর্শক সৈয়দ মোশারফ হোসেন চেকপোষ্টের দায়িত্ব পালন করেন। সব চেকপোস্টে ও ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে ছিলো ট্রাফিকের দুইজন সার্জেন্ট (উপ-পরিদর্শক) ও অন্যান্য সদস্যদের সরব উপস্থিতি। তারাও দিনব্যাপী জনসচেতনতায় কাজ করেছেন।
এ সময় পুলিশি চেকপোস্টে দেখা গেছে, বাজারে আসার কারন হিসেবে লোকজন বিভিন্ন অযুহাত দেখাচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তাসহ সঙ্গীয় ফোর্স সিএনজি স্কুটারসহ অন্যসকল গাড়িকে বুঝিয়ে কিংবা ঘুরিয়ে দিতে দিয়েছেন। তবে ছোট যানবাহন ও মানুষের চাপ এতোটাই বেশি ছিল যে, তাদের ফেরাতে রীতিমতো কষ্টকর আর পীড়াদায়ক হয়ে উঠেছে পুলিশের জন্য। এর মধ্যে অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিলো না মাস্ক।
অপরদিকে চলাচলকৃত যানবাহন ও মানুষের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কম থাকার কারণে হাজীগঞ্জ বাজারের বাইরে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কসমূহে সিএনজিচালিত স্কুটার, অটোরিক্সা, মিশুক, ব্যাটারীচালিত রিক্সা আগের মতোই চলাচল করেছে এবং বলাখাল বাজার, বাকিলা বাজার, দেবপুর বাজার, আলীগঞ্জ বাজার, এনায়েতপুর বাজার, রামপুর বাজার, রামচন্দ্রপুর বাজার, বেলচোঁ বাজার সেন্দ্রা বাজারসহ অন্যান্য বাজারের দোকান-পাট ছিল খোলা।
২৯ জুন, ২০২১।
