চাঁদপুর স্বামী স্বরুপানন্দের জন্মোৎসব অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার
দুই দিনব্যাপী ব্যাপক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে অযাচক আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী স্বরুপানন্দ পরমহংসদেবের জন্মোৎসব। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর শহরে সম্প্রীতি র‌্যালি বের করা হয়। হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে ও উৎসবমুখোর পরিবেশে তুমুল কড়তালির মধ্যে দিয়ে সম্প্রীতি র‌্যালির উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
তিনি স্বামী স্বরুপানন্দ পরমহংসদেবকে একজন সমাজ সংস্কারক আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি একজন ধর্মীয় সাধকই ছিলেন না, তিনি একজন সমাজ সংস্কারকও ছিলেন। তিনি মানুষকে সৎ পথে আনয়নের লক্ষ্যে চরিত্রগঠন আন্দোলনের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং মানুষকে সৎ চরিত্রের অধিকারী হতে সর্বপ্রথম চাঁদপুর শহরের অনতিদূরে ঘোড়ামাড়া মাঠে চরিত্রগঠন আন্দোলনের ডাক দেন। আজ বর্তমান সময়ে যা প্রতিটি মানুষের জীবনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে দেখা দিয়েছে চরিত্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে সৎ চরিত্রবান হতে হবে এবং অপরকে সৎ চরিত্রের অধিকারী হতে সহায়তা করতে হবে। ভালো মানুষ তৈরীর মধ্যে দিয়ে সমাজকে পাল্টে দিতে চেয়েছেন স্বামী স্বরুপানন্দ। তিনি চেয়েছেন মানুষকে কর্মমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে। তিনি মানুষকে অভিক্ষা মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মাঝে ভিক্ষা বৃত্তি জাগ্রত থাকলে তারা কর্মহীন হয়ে পড়বে। আর মানুষ যদি কর্মহীন হয় তাহলে সমাজে অযোগ্য লোকের সৃষ্টি হবে। ডা. দীপু মনি মহান সাধক স্বরুপানন্দ পরমহংসদেব জন্মোৎসবর আসতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আবারো যাতে এমন মহাপুরুষের অনুষ্ঠানস্থলে আসতে পারেন এজন্য সকলের আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেন। তিনি জন্মোৎসবের সফলতা কামনা করে বলেন আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আপনাদের সকল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করবেন। সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।
উদ্বোধনী পর্বে নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, জেলা হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, বাংলাদেশ সম্মিলিত অখণ্ড সংগঠনের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাসসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সম্প্রীতি র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম শেষে পুনরায় আশ্রমাঙ্গনে এসে শেষ হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় চরিত্রগঠন আন্দোলন শীর্ষক ধর্মীয় আলোচনা সভা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বরুপ ব্রহ্মচারী। বাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তাপস কমার সরকারের পরিচালনায় অতিথিদের মাঝে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি ডা. পরেশ চন্দ্র পাল, চাঁদপুর জেলা সাংস্কৃতিক ঐক্য জোটের সভাপতি তপন সরকার, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের চীফ রিপোর্টার বিমল চৌধুরী, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রাধেশ্যাম কুড়ি, কালিবাজার কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিমল চন্দ্র সরকার, রহিমপুর আশ্রমের সাবেক কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আশ্রম পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি দুলাল চন্দ্র দাস। এসময় নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, আশ্রম পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দাস, সদস্য মনতোষ সাহা, প্রনব সাহা, সঞ্জীত ভৌমিক, গৌতম কুমার ঘোষ, শিবু কুমার দাস, অনুপ দাস, মৃদুল কান্তি দাস, সুকুমার দাস প্রমুখ।
এর আগে গত সোমবার তার জন্মস্থান চাঁদপুর পুরান আদালত পাড়াস্থ অযাচক আশ্রমে শুরু হয়। দুই দিনব্যাপী জন্মোৎসবের গতকাল মঙ্গলবার ছিল শেষ দিন। এদিন হাজারো ভক্তের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে আশ্রমস্থল। জন্মোৎসব উপলক্ষে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আগত ভক্তের কীর্ত্তনসহ নেচে গেয়ে পরম শ্রদ্ধাভরে আরাধ্যে পরম গুরু স্বামী স্বরুপানন্দ পরমহংসদেবের প্রতি তাদের ভক্তি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনপূর্বক নিজেদের সুখ, শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন। তাদের ব্যাপক উপস্থিতিতে আশ্রমস্থল মিলন মেলায় পরিণত হয়।
এদিন আশ্রম অঙ্গনে ভোর ৬টায় থেকে উষা কীর্ত্তনাঞ্জলি, কীর্ত্তন, নবীন যুগের নববেদ, অখণ্ড সংহিতা পাঠসহ অখণ্ডমন্ডলেশ্বর স্বামী স্বরুপানন্দ পরমহংসদেবের আবির্ভাব দিবসের বিশেষ সমবেত উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয় মহাপ্রসাদ বিতরণ ও কীর্ত্তন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শান্তিবাচনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন আশ্রম অধ্যক্ষসহ ভক্তরা।
শান্তিপূর্ণভাবে জন্মোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনপূর্বক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর অযাচক আশ্রম, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত অখন্ড সংগঠনের সেবক-সেবিকারা। তারা আগামিতেও এমনি করে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সবার সহায়তা কামনা করেন কৃতজ্ঞচিত্তে।

২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩।