মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

অন্ধত্ব নিবারণে স্কুল শিক্ষকদের ভূমিকা, করণীয় এবং দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহায়তায় চাঁদপুর মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃক বাস্তবায়িত ভিশন সেন্টার, হাইমচরের আয়োজনে ইস্টাব্লিশিংয়ে মডেল অব উইমেন লীড গ্রীন ভিশন সেন্টার ইন রিমোট রুরাল এরিয়াস অব বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় রোববার (১৯ জুন) ‘ওরিয়েন্টশন অন পেডিয়াট্রিক প্রাইমারী আই কেয়ার ফর স্কুল টিচার্স’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা হাসপাতাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাসপাতালের চীফ কনসালটেন্ট ডা. মো. আনোয়ার হোসেন শেখের সভাপতিত্বে কর্মশালায় হাইমচর উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। দুই পর্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রোগাম ম্যানেজার এ কে এম নুরুল কবির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অরবিসের কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া অফিসার সাহস মোস্তাফিজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রান্তিক পর্যায়ে চক্ষু চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়িত মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের এই ধরনের মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি হাসপাতাল যেখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে দাতা সংস্থাসমূহের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং যথোপযুক্ত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি বদ্ধপরিকর। তিনি এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের জন্য হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ম্যানেজার (এডমিনিস্ট্রেশন) শামীম খানের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু জাফর।
তিনি বলেন, হাসপাতালটি অন্ধত্ব নিবারনে বিশেষ করে শিশু অন্ধত্ব নিরসনে এ অঞ্চলে বিনামূল্যে স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম, ভ্রাম্যমাণ চক্ষু চিকিৎসা শিবির এবং প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র (স্থায়ী চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র) স্থাপনসহ যেভাবে সেবার ধরন প্রসার করে আসছে এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যকর প্রশিক্ষণ প্রদানসহ দক্ষ জনবল সমৃদ্ধ হাসপাতাল সেবা নিশ্চিত করে আসছে, তার ফলে অল্প সময়ে এ অঞ্চলে অন্ধত্বের হার শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। কর্মশালায় সভাপতি ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার লক্ষ্যে ভিশন পয়েন্ট স্থাপন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার আশ্বাস প্রদান করেন।
তিনি প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং দাতা সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও হাসপাতালের সাধারণ পরিষদ, কার্যনির্বাহী পরিষদের সব সদস্য, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।
প্রাক মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সময় হতেই চাঁদপুর ও আশে-পাশের জেলাসমূহে অন্ধত্ব নিবারণ, দূরীকরণ এবং চক্ষু রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে পরিগণিত ছিল। মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল ১৯৮২ সনে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি চাঁদপুর জেলাসহ এর পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহে ভ্রাম্যমাণ চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে।
কর্মশালার দ্বিতীয় অধিবেশনে চোখের গঠন ও কাজ এবং চোখের বিভিন্ন রোগ এবং দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও চক্ষু স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা শীর্ষক মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন গ্রুপ ওয়ার্কের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেন হাসপাতালের চীফ কনসালটেন্ট ডা. মো. আনোয়ার হোসেন শেখ এবং ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া হাতে-কলমে ভিশন পয়েন্ট সেটাপ ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন হসাপাতালের অপটোমেট্রিস্ট জান্নাতুন নাহার এবং প্যারামেডিক নুরুন নাহার। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ উপকরণসহ স্বাস্থ্য সহায়িকা, ফ্লীপ চার্ট, ভিশন চার্ট ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। যাতে বাস্তবিক প্রয়োগের মাধ্যমে শিশু অন্ধত্ব নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

২০ জুন, ২০২২।