চোরাকারবারি মরু হাজী ও ফজল প্রধানিয়া আটক

আকিজ গ্রুপের ৪ কোটি টাকা চিনি পাচার

এস এম সোহেল
আকিজ গ্রুপের ৪ কোটি টাকার চিনি জাহাজ থেকে নামিয়ে বিক্রির ঘটনার মামলায় চাঁদপুরের চিহ্নিত চোরাকারবারী জাহাঙ্গীর আলম মরু ও ফজল প্রধানিয়াকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) চাঁদপুর নৌ-থানার ইনচার্জ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
চাঁদপুরের এই দুই চিহ্নিত চোরাকারবারির বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে অকটেন তেল চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, ইন্ডিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে দেওয়ান মেহেদী-২ লাইটারেজ জাহাজে ২০ হাজার ৩০০ বস্তা চিনি নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে চাঁদপুর মতলব উত্তর মোহনপুর মেঘনা নদীতে নোঙ্গর করে ৮ হাজার বস্তা চিনি চোরাকারবারী জাহাঙ্গীর আলম মরু, তার সহযোগী রঘুনাথপুর এলাকার শাহজাহান, পুরাণবাজারের ফজল প্রধানিয়া ও আলি খানের মাধ্যমে পাচারের পর বিক্রি হয়। এই ঘটনায় আকিজ গ্রুপের পক্ষ থেকে মতলব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অবশেষে মতলব মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান দেওয়ান মেহেদী-২ লাইটারেজ জাহাজের মাস্টারসহ ১১ জনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চাঁদপুরে চিহ্নিত চোরাকারবারী জাহাঙ্গীর আলম মরুসহ ৪ জনের নাম প্রকাশ পায়।
সেই চোরাকারবারিরা আকিজ গ্রুপ অফ কোম্পানির ৮ হাজার বস্তা চিনি সেই লাইটারের জাহাজ থেকে স্টিলবডি ট্রলারে নামিয়ে ফরিদপুরের বাকিতুল্লাহ বিশ্বাসের কাছে মাল বিক্রি করে। সেই চিনি ফরিদপুর, মাদারীপুর ও কুষ্টিয়ায় পাচার করেছে বলে তথ্য মিলেছে।
নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে চিনি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পথে দেওয়ান মেহেদী-২ লাইটারেজ জাহাজ থেকে ৮ হাজার বস্তা চিনি পাচার হয়ে যায়। সেই ঘটনায় জাহাজের মাস্টারসহ ১১ জন আটক করার পর চাঁদপুরের চিহ্নিত চোরাকারবারীদের নাম বেরিয়ে আসে। এই ঘটনায় সেই চোরাকারবারীদের ধরার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে অভিযুক্ত চোরাকারবারীরা গাঢাকা দিয়েছে।
এই দুই চোরাকারির বিরুদ্ধে চিনি পাচারসহ আরো দুটি মামলা রয়েছে সেই মামলায় তাদের আটক করা হয়েছে। অবশেষে এই দুই চোরাকারবারীদের পুলিশ আটক করায় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চাঁদপুরের চিহ্নিত গডফাদার চোরাকারবারী জাহাঙ্গীর আলম গাজী ওরফে মরু হাজী দীর্ঘবছর যাবত নদীতে লাইটারেজ জাহাজ থেকে বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানীর মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করে আসছে। সে এই কাজ করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তার নামে-বেনামে বাড়ি ও জায়গা জমি রয়েছে তিনি চাঁদপুর স্ট্যান্ড রোডে তার নিজস্ব পাঁচতলা ভবনে আলিশান বাড়িতে বসবাস করে। এই চোরাকারবারি জাহাঙ্গীর আলম মরু ও ফজল প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করলে চাঁদপুরে চোরাকারবারি বন্ধ হবে।

৩১ জানুয়ারি, ২০২৩।