ছোট মাছ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হচ্ছে …………… ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক


শাহ আলম খান
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলকরণ সংক্রান্ত ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন-২০২০’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৪টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা মৎস্য বিভাগ এই সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে নদীতে যে ছোট মাছগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে, তা আমাদের চোখে পড়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ এই বিশেষ কম্বিং অপারেশনের আওতায় চাঁদপুরকেও আনা হয়েছে। ছোট মাছ ধ্বংসকারী জালগুলো জব্দ করার জন্য দুই ধাপে সময় দেয়া হয়েছে। প্রথম অপারেশন আমাদের পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলেও পরবর্তীতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো।
তিনি বলেন, নদীতে এই অপারেশনের জন্য মেঘনা নদীর মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচর উপজেলার নদী উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করতে হবে। প্রত্যেক অভিযানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। মৎস্য কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই প্রত্যেকটি অভিযান সম্পন্ন হবে। এ ধরনের অভিযানে জব্দ জাল ও মাছ আইনী ব্যবস্থার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার বিধানও রয়েছে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকির সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি আবু তাহের খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মানিক, ইমরা মাহমুদ ডালিম, সেলিনা আক্তার, হাজীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামছুল আলম পাটওয়ারী, চাঁদপুর সদর সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব রশিদ, হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি আব্দুল মালেক দেওয়ান, মৎস্যজীবী নেতা তছলিম বেপারী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে বছরের এই সময়টাতে বেহুন্দি, চরঘেরা, গুল্টি, মশারি ও ঘেরাজাল দিয়ে বাইলা, চিংড়ি, জাটকা ও অন্যান্য প্রজাতির ছোট মাছগুলো নিধন হয়। যার ফলে এই ছোট প্রজাতির মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অনেকেই জেলেদের প্রতি অমানবিকতার কথা বললেও সরকার জেলেদের কোনভাবে ছোট করে দেখছেন না। তাদের ভালোর জন্যই এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই মাছগুলো বড় হলে তারাই আহরণ করবেন। এতে তাদের লাভের অংশই বৃদ্ধি পাবে। কারণ সরকার জেলেদের চাল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে।