চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী

এস এম সোহেল
চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল বিরল দৃষ্টান্ত দেখালেন। নির্বাচন অফিসারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মার্কা পাওয়ার আগে বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো তার সব ব্যানার খুলে ফেলেন তিনি। এটি সত্যিকার অর্থে বিরল দৃষ্টান্ত মনে করেন পৌরবাসী।
আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন আগামি ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ৯ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ হবে। তাই প্রতীক বরাদ্দের আগে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েলের ছবিযুক্ত ব্যানার বা ফেস্টুন শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে নামিয়ে ফেলেন এবং দলীয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেন যে কোনস্থানে ব্যানার থাকলে তা খুব শীঘ্রই নামিয়ে ফেলাতে।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে শহরের বিভিন্ন স্থানে লাগানো ব্যানার নামিয়ে ফেলেন। অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু এমপির বাসার সামনে লাগানো দুটি ব্যানার নামিয়ে ফেলেন। তার পর্যায়ক্রমে শহরের নতুন বাজার, বাসস্ট্যান্ড, ডিসি অফিস, সদর উপজেলা, ওয়ারলেছ সবশেষে বঙ্গবন্ধু সড়কের শেষ মাথায় তার বাড়ির সামনে লাগানো ব্যানার নামিয়ে ফেলেন।
উচ্চ শিক্ষা, সততা, যোগ্যতা, মেধা, ভদ্রতা ও মার্জিত আচরণের কারণে ইতিমধ্যে সর্বমহলে সমাদৃত অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা যাতে কোন কারণে ভঙ্গ না হয়, সে জন্যই তার এ ব্যতিক্রমি উদ্যোগ। তার এ ব্যতিক্রমি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে চাঁদপুরের সচেতনমহল। তারা জানান, যেখানে নির্বাচনকালীন সময়ে আচরণ বিধিমালা রক্ষায় ব্যানার অপসারণের জন্য প্রশাসনের মাঠে নামতে হয়। সেখানে মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল নিজেই নিজ ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন খুলে চাঁদপুরবাসীর কাছে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।
চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হতে আরও প্রায় কয়েকদিন বাকি। তবে মূল দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে ভোটের লড়াই। নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকে এবারই প্রথম নির্বাচন। তাই নতুন কৌশল নিয়ে প্রচারে নামার পরিকল্পনা করছেন মেয়র প্রার্থীরা।
চাঁদপুর পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির সমর্থিত সফিকুর রহমান ভূঁইয়া আগে নির্বাচন করার অভিজ্ঞা থাকলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল ভোটের মাঠে নতুন। তাই তিনি ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, ব্যানার নামিয়ে ফেলা বিরল দৃষ্টান্ত কিনা আমি জানি না, তবে আমি কোন নিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে চাই না। আমি যদিও দলীয় প্রার্থী, নির্বাচন অফিস থেকে আমাকে এখনো মার্কা দেওয়া হয়নি। তাই শহরের বিভিন্ন স্থানে কিছু নেতা-কর্মীরা নাজেনে আমার ছবিযুক্ত ব্যানার লাগিয়েছে। তাই শৃঙ্খলার স্বার্থে মার্কা দেওয়ার আগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো ব্যানার নামিয়ে ফেলেছি। সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সব প্রার্থীদের নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের সিদ্ধান্ত আরো আগের। ব্যস্ততার জন্য সময় করে উঠতে পারিনি। নির্বাচনী বিধিমালা রক্ষায় সবসময় সচেষ্টা থাকার চেষ্টা করবো। কারণ পৌর এলাকার দায়িত্ব নেয়ার জন্য নির্বাচনী মাঠে নেমেছি, তাই নিজেকে ভালো কিছুর প্রত্যয়ে সবসময় প্রস্তুত রাখাটাই উচিত। পৌরসভা নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে তাদের ব্যানার ও ফেস্টুন ৯ মার্চের পূর্ব পর্যন্ত অপসারণ করা এবং নতুন করে সাঁটানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। আর যে যেখানে আমার ছবি সম্বলিত ব্যানার সাঁটিয়েছেন তাদেরকেও বিনয়ের সাথে জানাচ্ছি নিজ দায়িত্বে ঐ সকল ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করবেন। নির্বাচনী বিধিমালা রক্ষায় সকল প্রার্থীরই সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের দিনেও তিনি সব প্রার্থীকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি দৃষ্টি রেখে রাত ৮টার পরিবর্তে ৬টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহারের অনুরোধ করেন। এ অনুরোধকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন।
