জেল হত্যা দিবসে উপলক্ষে চাঁদপুরে আ.লীগের আলোচনা ও দোয়া

স্টাফ রিপোর্টার
জেল হত্যা দিবসে চাঁদপুরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়ায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় চার নেতাসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে আমরা সব সময় স্মরণ করবো। তাদের আদর্শকে লালন করে আমরা আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবো। অসাম্প্রদায়িকভাবে সবাই একসাথে বসবাস করবে, সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু আজ আবারও সেই সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা আবার পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিলো। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই। আগামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আরো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ৫টি আসন যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়া যাবে তখন বুঝা যাবে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরনের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুর রব ভূঁইয়া, আব্দুর রশিদ সর্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. রুহুল আমিন সরকার, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. বিনয় ভূষন মজুমদার, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মিয়াজী, সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন মন্টু, আওয়ামী মৎসজীবী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মালেক দেওয়ান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস মোর্শেদ জুয়েল, জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা অহিদুর রহমান, মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রেবেকা সুলতানা, নেত্রী রেনু বেগম প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় ৪ নেতার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৮টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলহত্যা দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় ৪ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানন। এর আগে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করেন নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, জাতির পিতার আজীবন রাজনৈতিক সহচর জাতীয় ৪ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন (অব.) মুনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামানকে এই দিনে জেলখানার অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মানবতা বোধের চরম নির্মমতা ও নিষ্ঠুর সাক্ষী হচ্ছে ৩ নভেম্বরের জেলহত্যা দিবস। বাংলার জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এম. মুনসুর আলী, খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামানকে আজীবন স্মরণ করবে। সেই থেকে ৩ নভেম্বর দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে একটি কলংকময় দিন।

০৬ নভেম্বর, ২০২২।