স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। ঝুঁকি এড়াতে হরিসভা এলাকায় বালিভর্তি বস্তা ফেলা শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রায় প্রতি বছর চাঁদপুরে মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর পানি বাড়লে শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। ঐসময় বালিভর্তি বস্তা ও ব্লক ফেললেও পরের বছর আবার ভঙন দেখা দেয়। তাই স্থানীয়রা ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান চান।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ৩ হাজার ৩শ’ ৬০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের অবস্থান। পুরো শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্য আমরা ৪শ’ ৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠালেও গত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তা’ স্থগিত করা হয়। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সমীক্ষা করে পুনরায় প্রকল্প দাখিল করতে। কিন্তু করোনার কারণে সমীক্ষার জন্য একটি প্রকল্প তৈরী করা এখনো সম্ভব হয়নি।
পুরাণবাজারের হরিসভা নদী ভাঙন দেখা দিলে শিক্ষমন্ত্রী ডা. দীপু মনি চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করেন। এখনও কাজ চলমান আছে।
খবর পেয়ে গতকাল বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চাঁদপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. সাইফুদ্দিন বাবু, চাঁদপুর পৌর যুবলীগ আহ্বায়ক আব্দুল মালেক শেখসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল বলেন, আমরা খুব আতংকে রয়েছি। ভাঙন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। অনেক বাসিন্দা ভাঙন আতংকে এলাকা ছেড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কালু হাওলাদার বলেন, আমরা আতংকে রয়েছি। যে কোনো সময় এলাকাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকাটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। গতবছর হরিসভা এলাকায় ভাঙনে বেশকিছু বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ভাঙন আতংকে রয়েছে হরিসভা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ও রয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পুরাণবাজার ব্যবসায়িক এলাকাও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, হরিসভা এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার জানান, মেঘনা নদীর পানি ও স্রোতধারা বৃদ্ধির কারণে হরিসভা এলাকাটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই এলাকার ৯০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভাঙন ঠেকাতে বালিভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। এরমধ্যে এক হাজার বস্তা ফেলা হয়েছে। আরও বস্তা ফেলা হবে। এখানে মোট ১৫ হাজার বালিভর্তি বস্তা ফেলা হবে।
তিনি আরো পানি জানান, চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার করা হয়নি। একটি বাঁধ পাঁচ বা দশ বছর পর-পর সংস্কার করতে হয়। কিন্তু তা’ করা হয়নি।
০৯ জুলাই, ২০২০।
