সংসদ টিভির ক্লাশ নির্ভর করে চলছে চাঁদপুরের প্রাথমিকের শিক্ষা

শাহ আলম খান
করোনা পরিস্থিতিতে গত মার্চ মাস থেকে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া সংসদ টিভিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান শুরু হয়। মূলত গত প্রায় ৪ মাস জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হাজার-হাজার শিক্ষার্থী সংসদ টিভির ক্লাশের উপর নির্ভর করেই চলছে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রায়ই দাপ্তারিক কাজে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১১৫৬, কেজি স্কুল ৬৩২, এনজিও স্কুল ৬৩, উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭টি, আন রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪, পরীক্ষামূলক বিদ্যালয় ১ ও অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮টিসহ জেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮৭১টি। করোনা পরিস্থিতিতে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। একই সাথে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ কিন্ডারগার্টেনগুলোও বন্ধ রয়েছে। এসময় স্বাস্থ্য সুরক্ষার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাসায় অবস্থান করছেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের শিক্ষার্থীরা সংসদ টিভির পাঠগ্রহণ করতে পারলেও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা এসব ক্লাশ থেকে বঞ্চিত। শহরের অনেক শিক্ষার্থীও সংসদ টিভির পাঠ গ্রহণ করছে না বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ রয়েছে। মতলব উত্তর থেকে হাইমচর উপজেলার ইশানবালা পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ছোট-বড় চর রয়েছে। এসব চরের অধিকাংশ গ্রামে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। যার কারণে টেলিভিশনে পাঠদান গ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য শুধুমাত্র স্বপ্ন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হালিমা আক্তারের সাথে কথা হয় এই বিষয়ে। তার দুই মেয়ে পড়েন সাপদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে দুই মেয়ে নিয়ে খুবই বিপাকে পড়েছি। বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে দুষ্টমি আরো বেড়ে গেছে। টেলিভিশন না থাকার কারণে ক্লাশও দেখা সম্ভব হয়নি।
চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোডের বাসিন্দা মিজানুর রহমান লিটন জানান, তার এক ছেলে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়েন। করোনা পরিস্থিতির আগে গৃহশিক্ষক দিয়ে পড়াতেন এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতো। কিন্তু বর্তমানে সংসদ টিভির ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী না। মন চাইলে পড়তে বসে। আর না হয় ঘোরাফেরা ও খেলাধুলা করে সময় কাটায়।
চাঁদপুর জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি প্রত্যেকটি নির্দেশনা মেনে চলছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেয়া প্রত্যেকটি নির্দেশনা জেলা অফিস থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দেয়া হয়েছে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা সংসদ টিভির ক্লাশগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এসব নোটিশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ফেসবুক কিংবা ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা সময়সূচি দেখে ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে পারে। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারি প্রতিটি নির্দেশনা উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানো নিশ্চিত করাসহ আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো। জেলার ১ হাজার ১শ’ ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে সংসদ টিভির ক্লাশে যুক্ত হতে পারেন সে বিষয়ে আমাদের প্রচারণা অব্যাহত ছিলো এবং আছে।

০৯ জুলাই, ২০২০।