দু’দিনেও সন্ধান মিলেনি মতলব উত্তরে নিখোঁজ ছাত্রের

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ে মোহনপুর পর্যটনে মেঘনা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে শাহরিয়ার ইশতিয়াক শামস (১৬) নামে ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সাথে সুস্মিত সাহা (১৬) নিখোঁজ হয়। দু’দিনেও তার সন্ধান মেলেনি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১২টায় এ ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে উদ্ধার অভিযান চালান। কিন্তু এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় অভিযোগ স্থগিত করা হয়েছে।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক সাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসছি। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দু’দিনব্যাপী রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ স্কুলছাত্র সুস্মিত সাহার সন্ধান পাইনি। সেজন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় অভিযোগ স্থগিত করা হয়েছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাইনি। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এদিক ওদিকও খোঁজ করা হয়েছে।
নিহত ও নিখোঁজ দু’ছাত্র ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ নারায়ণগঞ্জ শাখার দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নৌ ভ্রমণে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর পর্যটনে আসেন। প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী এসেছিলেন এই সফরে। কিন্তু ফিরতে পারলেন না দুই ছাত্র।
মোহনপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক বাবুল বালা বলেন, ওইদিন দুপুরে অনেক লোকজন ঘুরতে আসে মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রে। পর্যটন কেন্দ্রের পাশেই মেঘনা নদীতে সাঁতার দেয়ার জন্য একটি জোন তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে অনেক শিশু-কিশোর পানিতে নেমেছে। এর মধ্যে ২ জন পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ১ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও সুস্মিত সাহাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
মোহনপুর পর্যটনের বীচ সিকিউরিটি ম্যানেজার সাদেকুর রহমান বলেন, আমরা সবসময়ই সতর্ক করে থাকি। সাঁতার না জানলে নদীতে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। আজও তাদের হ্যান্ডমাইক দিয়ে নদীতে নামতে নিষেধাজ্ঞা সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারা সিকিউরিটি গার্ডদের সাথে দুর্ব্যবহার করে নদীতে নেমেছে। তবে সামনে দিয়ে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে জোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের সমন্বয়কারী আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, আমরা ছাত্রদেরকে পানিতে নামতে নিষেধ করেছি। চারদিন আগে থেকেই তাদের বলা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঘটনাটি ঘটে গেল। আমরা খুবই দুঃখিত।
এদিকে নিহত ও নিখোঁজ ছাত্রের অভিভাবক ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা দ্রুত নিখোঁজ সুস্মিত সাহাকে উদ্ধারের দাবি জানান।

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।