শাহ্ আলম খান
চাঁদপুর সদর উপজেলার আলুবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির দুই এএসআই মহসিন ও মইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ায় তাদের বদলি করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পরই তাৎক্ষণিক আলুবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মহসিন ও মইনুদ্দিনকে বদলি করেন।
আলুবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এই দুই এএসআই অভয়াশ্রম চলাকালীন সময়ে নদীতে জেলেদের আটক করে আর্থিক লেনদেন ও দুর্ব্যবহার করার ঘটনায় জেলেদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ায় পরেই তাদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নৌ পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গুটিকয়েক অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার জন্য নৌ-পুলিশের যাতে সুনাম ক্ষুণ্ন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে নৌ-পুলিশ সুপার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
নৌ পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, অভয়াশ্রম চলাকালীন সময়ে জাটকা রক্ষায় নৌ-পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা দেখিয়ে জাটকা, জাল ও জেলে আটক করেছে। কাজ করতে গিয়ে নৌ-পুলিশের কোন পুলিশ কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকলে তাদের কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাই দুই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তাদের বদলি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে পরবর্তীতে তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, আলুর বাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অভিযুক্ত দুই এএসআই মহসিন ও মাইনুদ্দিন আইন বহির্ভূতভাবে হরিণা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সীমানায় প্রবেশ করে নদীতে জেলেদের আটকের পর আর্থিক লেনদেন করে। শনিবার রাতে চান্দ্রা ইউনিয়নের আখন ঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে কাচকি মাছ ধরার সময় ৯ জেলেকে আটক করে আলু বাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মাইনুদ্দিন। এদের মধ্যে মনির নামের এক জেলেকে ইব্রাহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম খানের সুপারিশে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এছাড়া ৮ জেলের কাছ থেকে স্পিড বোর্ডের ড্রাইভার বসু খানের ছেলে কাদিরের মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করার ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নৌ-পুলিশ সুপার অভিযুক্ত দুই পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
২৭ এপ্রিল, ২০২১।
