নান্দনিক চাঁদপুর অধরা!

দৃষ্টিনন্দন শহর গড়তে নেই সবুজায়নের ছোঁয়া

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচিত নতুন মেয়র ইতোমধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন সড়ক, খাল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মতো বেশকিছু কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ উপস্থিত হয়ে দেখভাল করছেন। এতে করে পৌরবাসী মুগ্ধ হচ্ছেন মেয়রের কর্মকাণ্ডে। পৌর নাগরিকরা একটি নান্দনিক চাঁদপুর শহর প্রত্যাশা করছেন এই মেয়রের কাছে। পৌর মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল সেই নান্দনিক চাঁদপুর গড়তে এখন কতটা সক্ষম হবেন তাই দেখতে চায় পৌরবাসী।
এদিকে মেয়রের ভিশন ‘ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক চাঁদপুরে’র প্রতিশ্রুতির কথাও মনে রাখছেন পৌরবাসী। পৌরবাসী বলছেন, তাদের প্রিয় এই শহরটি যেহেতু আকারে একবারেই ছোট, তাই চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আবদুস সবুর মন্ডলের ব্র্যান্ডিং জেলা ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ হিসেবে গড়ে তুলতে মেয়র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ এখন সময়ের দবি। তাহলে যেমন শহরটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, তেমনি পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।
আর এ কারণেই নান্দনিকভাবে চাঁদপুর শহরকে গড়ে তুলতে প্রথমেই মূল সড়কগুলোকে সাজাতে দরকার বাহারী ফুল গাছ, বনায়নসহ সবুজায়নের মাধ্যমে। তাহলেই নান্দনিকতা বাড়বে এ শহরের। সাথে মেয়রের গ্রহণযোগ্যতা তো বাড়বেই বলছে পৌর নাগরিকরা। এ ক্ষেত্রে চাঁদপুরের চেম্বার অব কমার্সও রাখতে পারে বড় ধরনের ভূমিকা। তারা যদি ফিরিয়ে আনেন তাদের হারিয়ে যওয়া বাণিজ্যিক ঐতিহ্য। তাহলে নান্দনিকতা যেমন ফিরবে তেমনি চাঁদপুরের রুপে মুগ্ধ হবেন যে কোন ব্যক্তিই।
তবে পর্যটনের জন্য ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’কে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পৌরসভা থেকে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করলেই ফিরবে পর্যটনের মতো সুবিধা। এজন্য পৌরসভা কর্তৃক বেসরকারি কিংবা প্রাইভেট উদ্যেগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থল, রেল ও নৌ-রুটি বিশেষ পর্যটন নির্ভর লঞ্চ, বাস, ট্রেনের ব্যবস্থাগ্রহণের কথা বলছেন কেউ কেউ। তাহলে তাজা ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে দেশের বিভিন্নপ্রান্ত হতে ভ্রমণ পিপাসুরা যেমন ছুটে আসবে, তেমনি চাঁদপুর ফিরে পাবে তার হারানো বাণিজ্যিক প্রাণ ও চঞ্চলতা।
এদিকে সর্বসাধারণ বলছে, চাঁদপুরকে নান্দনিক রূপে আনতে শহরের লেকগুলোর দৃষ্টিনন্দন করে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য উপযোগী করতে হবে। এজন্য শহরের লেকগুলোর উভয় পাশে বাহারী গাছ ও বসার স্ট্যান্ড স্থাপন করলে অনেকটাই আকর্ষণীয় হবে। সাথে পৌর পাঠাগারকে নতুন সাঝে রাঙিয়ে তুলতে পারলে জ্ঞান পিপাসুরাও লাভবান হবে। তৈরি হবে এক শ্রেণির আলোকিত মানুষ।
তবে চাঁদপুর শহরের সৌন্দর্যকে অতীতের যে কোন সময়ের ফুটিয়ে তুলতে পৌর কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় বিলবোর্ড নিয়মিত অপসারণ করার তাগিদ দিয়েছেন অনেকেই। যা শহরের নান্দনিকতাকে অনেকটাই করবে সময়পোযোগী। যা শহরটিকে করবে নোংরা মুক্ত। সাথে সব সড়কগুলোতে রাতে এলইডি লাইটের আলোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা সম্ভব হলে নতুন এক শহর হবে এই চাঁদপুর।
এদিকে পৌরবাসী বলছে, তাদের নতুন মেয়র তার ভিশন ‘ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক চাঁদপুরে’র প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নকে দৃশমান করতে পারলে নান্দনিকতা হাতের মুঠোয় আসতে সময় লাগবে না। তবে এজন্য মেয়রসহ জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছে, জেলার বিশিষ্টজনসহ রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত চাঁদপুর গড়তে যদি উদ্যোগী হন মেয়র তাহলে একটি পরিকল্পিত চাঁদপুর গড়া সম্ভব হবে। সেই সাথে মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল অনন্য উচ্চতায় নিজকে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন বলে অভিমত সচেতন মহলের।
২০ নভেম্বর, ২০২০।