নামে-বেনামে গড়ে উঠা মাদ্রাসায় কী হচ্ছে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন

চাঁদপুরে আইন-শৃঙ্খলা সভায় বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান। বিগত মাসের কার্যবিবরণী ও অগ্রগতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
সভায় বক্তারা বলেন, চাঁদপুরে জাটকা রক্ষার কর্মসূচি চললেও পুলিশের নাকের ডগায় নৌ-থানার পাশে টিলা বাড়ি এলাকায় জাটকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাজরাজেশ্বর নদীর মুখ বন্ধ করতে হবে। এ অংশটি শরীয়তপুরের সাথে সম্পৃক্ত। এ এলাকার জেলেরা জাটকার মৌসুমে দেদারছে জাটকা নিধন করছে। টাস্কফোর্সের অভিযান চললেও নদী সীমানার এতটুকু পথ পাড়ি দিতে গেলে অসাধু জাটকা জেলেরা দ্রুত ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তাই রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের নদীর যে চ্যানেলটি রয়েছে এটি শরীয়তপুরের অংশে। তাই এই চ্যানেলটি বন্ধ করা প্রয়োজন। কয়েকদিন আগে হরিণা ঘাটে জাটকা আটকের পর নৌ-পুলিশকে বলা সত্বেও তারা সেখানে যায়নি। কি কারণে তারা গড়িমসি করেছে তা জানা প্রয়োজন।
বক্তারা আরো বলেন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ইদানিং আবার পকেটমারের উপদ্রব বেড়ে গেছে। বহির্বিভাগের টিকেট কাউন্টার এলাকায় সিসি ক্যামেরা থাকলেও বোরকা পরিহিত নারীরা পকেট কাটছে। ক্যামেরার ফুটেজে তাদের মুখ সনাক্ত করা যাচ্ছে না। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পকেটমার রোধে নারী পুলিশ সদস্যদের টহল জোরদারের জন্য বলা হয়।
বক্তারা বলেন, চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে বাসা-ভাড়া করে সেখানে মাদরাসা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন নামে এসব মাদ্রাসা কী কর্মকা- হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পদ্মা তেলের ডিপো থেকে শুরু করে শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন যে কাজ করছে তা প্রশংসার দাবিদার। শহরের চক্ষু হাসপাতালের সামনে আবারও মাদক বিক্রেতারা সক্রিয় হয়েছে। সবুজ নামের এই মাদক ব্যবসায়ী এখন যুব সমাজ ধ্বংস করার জন্য মাদক বিক্রি করছে। তাকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। নিশি বিল্ডিং এলাকায় একইভাবে মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে । এদের প্রতিহত করা প্রয়োজন।
সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম.এ ওয়াদুদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মজিবুর রহমান, এনএসআই’র উপ-পরিচালক এবিএম ফারুক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ কবির চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী, জেলা পরিষদ সচিব মিজানুর রহমান, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. খলিলুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো. মজিবুর রহমান, গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্বাস উদ্দিন, জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র নন্দী, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলীমা আফরোজ, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী আফরোজ, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া, শাহরাস্তি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।