জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ও অনলাইন করার নামে
মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরী, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, ডিজিটাল অনলাইন, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করলেও অতিরিক্ত টাকা সব ইউনিয়নেই নেয় বলে জানান অভিযুক্ত ওই সচিব।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নারায়নপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ জনগণের কাছে নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরী, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, ডিজিটাল অনলাইন, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদের নামে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে কাজ করছেন ইউপি সচিব মো. মশিউর রহমান। অতিরিক্ত টাকা না দিলে আজ হবে না, পরে আসেন, বালাম বই ও অনলাইনে আপনার নিবন্ধন নেই ইত্যাদি কথা বলে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ইউপি সচিবের এমন আচরণে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে সরকারের গ্রামীণ পর্যায়ের ডিজিটাল সেবা। সরকারের এই ডিজিটাল সেবা সঠিকভাবে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী।
ইউনিয়নের পয়ালী গ্রামের নাজমা বেগম জানান, আমার পরিবারের চার জনের জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে আসলে ইউপি সচিব আমার কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। পরে আমি ৫শ’ টাকা দিয়ে কাজ করিয়ে নেই।
এদিকে মিম আকতার নামে এক স্কুল ছাত্রীর জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে আসলে চরম বিড়ম্বনায় পরতে হয় মিমের অভিভাবককে। মিম আকতারের নিবন্ধন অনলাইন করতে আসলে ইউপি সচিব ছাফ জানিয়ে দেন এটা হবে না। পরে মিমের অভিভাবক কেন হবে না সচিবের কাছে জানতে চাইলে সচিব জানান, এটা বালাম বইয়ে নাই।
অভিযোগের সূত্র ধরে ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল মোস্তফা তালুকদারকে বিষয়টি জানালে তিনি বালাম বই খুলে মিম আকতারের নিবন্ধন বালাম বইয়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
নাজমা বেগম ও মিম আকতারের মতো একাধিক জনগণ সরকারি সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত হযরানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব মো. মশিউর রহমানের কাছে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে অতিরিক্ত টাকা কেন নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রিন্ট ও কাগজ খরচ আছে। তাছাড়া সব ইউনিয়নেই তো বেশি নেয়।
ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল মোস্তফা তালুকদার জানান, সরকারি নিয়মের বাইরে যেন কোন টাকা নেওয়া না হয়- আমি সচিবকে বলে দিয়েছি।
২৫ মে, ২০২১।
