নিজ ঘরে পরবাসী ফরিদগঞ্জের রশিদ হাওলাদার

পাচ্ছেন না স্ত্রী ও সন্তানের কাছে আশ্রয়

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটানোর পর একমাত্র ছেলেকে নিজের চাকরি দিয়ে চলে আসেন দেশে। এরপর দেশেই শুরু করেন গরুর ব্যবসা। বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে গরু এনে তার নিজের উপজেলায় যৌথ অংশীদারদের মাধ্যমে বিক্রি করতেন। এভাবে দীর্ঘদিন ব্যবসা করার পর তিনি ফাঁদে পড়ে ভারতের মাটিতে এক যুগ জেল খাটেন। জেল থেকে বের হয়ে বাংলাদেশে নিজের বাড়িতে ফিরে আসলে গত এক বছর ধরে তিনি নিজের স্ত্রী ও সন্তানের কাছে অবহেলার পাত্র হিসেবে চিহ্নিত। সম্পত্তির মোহে স্ত্রী-সন্তানরা এখন তাকেই নিজ ঘরে থাকতে দিচ্ছেন না। দিচ্ছেন না চিকিৎসা খরচ। উল্টো হত্যা করে সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় তারা। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বৃদ্ধ আবদুর রশিদ হাওলাদার (৭৫)-এর।
আবদুর রশিদ হাওলাদার জানান, আমি গরুর ব্যবসা করতাম। ভারত থেকে গরু এনে দিতাম আমার ব্যবসায়িক পার্টনারদের। ভারত থেকে ৯ লাখ টাকার গরু দেশে পৌঁছালে আমার স্ত্রী-সন্তানরা সে টাকা আত্মসাৎ করে। আমাকে ওপারে আটক করে রাখে। এক পর্যায়ে আইনি জটিলতায় পড়ে ১২ বছর জেল ভোগ করি ভারতে। আমি দেশে এসেছি এক বছর হলো। দেশে ফিরে আসার পর থেকে আমার স্ত্রী নাজমা বেগম কাঞ্চন এবং একমাত্র ছেলে শাহআলম এখন আমায় বাড়ি ঘরে উঠতে দেয় না। আমার ঘর-দরজা ভেঙে নিয়ে গেছে। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টায় বার-বার আক্রমণ করছে। আমার নিজের সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে তারা সব চেষ্টা করছে। আমার ছেলের ঢাকায় বাড়ি এবং গ্রামে বাড়ি থাকলেও আমাকে থাকতে হচ্ছে ভাঙ্গাচুরা একচালা টিনের ঘরে।
সরেজমিন গেলে রশিদ হাওলাদারের স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, তিনি আমাদের সাথে রুক্ষ আচরণ করেন। তাই তার সাথে পরিবারের কারো সাথেই সম্পর্ক ভালো না। ছেলে শাহ আলম জানান, বাবা যা ইচ্ছা করুক। এই বাড়িঘর আমার। তাকে (বাবাকে) আলাদা থাকার জায়গা দেয়া হয়েছে। তার বিষয়ে আমার কিছু করার নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ হোসেন গাজী জানান, পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্বের বিষয়ে মীমাংসা করতে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ কয়েকবার চেষ্টা করেছি। তারা কেউই কাউকে মানতে রাজি না। সর্বশেষ আমাদের স্থানীয় চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেখানেও কোনো সফলতা আসেনি। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পিতা হয়তো ভরণ-পোষণের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।

১৮ এপ্রিল, ২০২৩।