সাহেদ হোসেন দীপু
হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডিয়ারা বাজারে হামলা দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজার ব্যবসায়ী ও পথচারীসহ আহত হয়েছেন অন্তঃত ৫ জন। খবর পেয়ে ঈশানবালা বায়ারচর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করে হাইমচর থানায় নিয়ে আসে।
জানা যায়, রোববার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নীলকমল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চৌকদার কান্দিতে স্থানীয় প্রবাবশালী সানু পেদা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রতন হাজির নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জন লোক ডিয়ারাবাজারে আকস্মিক হামলা চালায়। এসময় একটি দোকান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় ৫জন আহত হন। আহতরা হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় সাঈদ পেদার ছেলে কবির হোসেনকে আটক করা হয়।
ডিয়ারা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ বেপারী জানান, সানু পেদা ও রতন হাজির নেতৃত্বে কাশেম পেদা, মোশারফ পেদা, দেলোয়ার পেদা, জহিরুল ইসলাম পেদা, বাদশা পেদা, রাসেল পেদা জুয়েল পেদা সহ প্রায় ৭০ থকে ৮০ জন লোক প্রথমে মোকামে যাওয়ার সময় ট্রলারে হামলা চালিয়ে টাকা পয়সা, মোবাইল লুটপাট করে। পরে আবার পুনরায় হঠাৎ করে বাজারে এসে দোকানপাট ভাঙচুর শুরু করে। এসময় তারা একটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। ব্যবসায়ী ও পথচারীদের উপর গণহারে হামলা চালিয়ে লোকজনকে আহত করে। দেকানপাট লুটপাট করার সময় স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।
বাজার কমিটির সভাপতি হুমায়ুন চৌকদার জানান, সানু পেদা ও রতন হাজি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাজার দখল করার জন্য দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বাজারের দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমি বাদী হয়ে হাইমচর থানায় মামলা দায়ের করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার রাসেল হওলাদার জানান, আমি বাজারে গিয়ে দেখি প্রায় ৭০ থেকে ৮০জন লোক দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দোকান পাট ভাঙচুর করছে। আমি অনেক চেষ্টা করেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। তারা একটি দোকানে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে অনেককেই আহত করেছে।
বায়ারচর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি গপিনাথ জানান, আমি সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ করি। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছি। বর্তমানে ঐ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ডিয়ারা বাজারে মারামারির সংবাদ পেয়ে ঈশানবালা বাঁয়ারচর ফাঁড়ির ইনচার্জকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করি। একজনকে আটক করা হয়েছে। যে বা যারাই এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কোন অপরাধীকেই আমরা ছাড় দিব না। যারাই হাইমচরে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে আমি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করবো। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৪ জানুয়ারি, ২০২১।
