বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা
এস এম সোহেল
চাঁদপুরে ৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শহরের বিভিন্ন সড়ক। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৮২ মিলিমিটার। এখনও থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বৃষ্টির কারণে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের ভেতরে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মুশলধারে বৃষ্টির ফলে ড্রেনের পানি মিলেমিশে শহরের রাস্তা একাকার হয়ে গেছে।
যার ফলে সড়ক, মাছের ঘের ও বাসা-বাড়িতে পানি উঠেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। শহরের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। টানা বৃষ্টির কারণে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় যেতে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও খেটে খাওয়া মানুষ সড়কে নেমেছে। বিশেষ করে রিকশাচালক ও হকারদের সড়কে দেখা গেছে।
টানা ৩ দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে চাঁদপুর শহরের বেশ কয়েকটি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অসচেতনতার কারণে ড্রেনের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
শহর ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে শহরের আ. করিম পাটোয়ারী সড়ক ও ট্রাক রোডের অবস্থা একেবারই নাজুক। সেখানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উভয় সড়কে বড়-বড় গর্তের ফলে ট্রাক, প্রাইভেটকার, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, রিকশাসহ ছোটবড় অসংখ্য যানবাহন হেলেদুলে চলছে।
এছাড়া চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের ভেতরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এদিকে বেড়িবাঁধের পানি না কমায় মাছের ঘেরগুলো নিয়ে খামারিরা খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
অপরদিকে, পুরান বাজার এলাকার পালপাড়া মোড় থেকে দোকানঘর পর্যন্ত সড়কটিও যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী থাকলেও অজ্ঞাত কারণেই মেরামত করছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
আ. করিম পাটোয়ারী সড়কের বাসিন্দা মুনতাসিম মাসুক বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এই সড়কের ফুটপাত ও সড়ক সংস্কার কাজ ধীরগতিতে চলছে। কবে নাগাদ পৌরসভার এই কাজ শেষ হবে জানি না। দীর্ঘ ৫/৬ বছরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ন্যূনতম সংস্কার না করায় চরম ক্ষোভ স্থানীয়দের মাঝে। এই সড়কের বেহাল দশায় কোন অটোরিকশা-সিএনজি যাত্রীদের কেউ ভাড়া নিতে চায় না।
নাজিরপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর গাজী বলেন, এই এলাকাটি স্বাধীনতা পরবর্তী জলাবদ্ধতার অভিশপ্ততা থেকে পরিত্রাণ পায়নি। ড্রেনেজ ও সড়কের কাজ করলেও বছর না যেতেই পিচ ঢালাই উঠে বড় বড় গর্ত এবং পয়ঃনিস্কাশন প্রক্রিয়া সংস্কার না করায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। একই রকম অবস্থা পাশের মাদ্রাসা রোড, ব্যাংক কলোনী ও প্রফেসরপাড়ায়।
অটোরিকশা চালক সবুজ গাজী বলেন, এই সড়কে এখন আর গাড়ি চালানো যায় না। রাস্তা খারাপ হওয়ায় সিএনজিতে মালামাল লাগিয়ে কুল কিনারা পাই না। আইজ এইডা, কাইল ঔডা নষ্ট হয়ে যায়। সংসার চালামু, নাকি গাড়ির যন্ত্রপাতি লাগামু।
সিএনজি চালক মজিবুর রহমান বলেন, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে বাসা থেকে বের হতে পারিনি। মঙ্গলবার বিকেলে একবার বের হয়েছিলাম, সড়কে যাত্রী নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে আছি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আল-আমিন জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি উঠেছে। বেড়িবাঁধের পানি না কমায় মাছের ঘেরগুলো নিয়ে খামারিরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছে। পানিবন্দি লোকজনও পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, আমরা প্রতিনিয়ত মৎস্যচাষিদের সাথে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। সেচপ্রকল্প কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি, যাতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যায়।
চাঁদপুর লঞ্চঘাটের দায়িত্বরত ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মো. শাহ্ আলম জানান, টানা বৃষ্টি হচ্ছে। তবে চাঁদপুর-ঢাকা নৌ পথের সব ধরনের লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ মো. শোয়েব জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বালাদেশ এলাকায় ঝড় হাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দিনে ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও, আজ বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ বৃষ্টিপাত হ্রাস পেতে পারে। এখন পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা-মেঘনা নদীর পানি বেড়েছে। তবে বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৭ মিলিমিটার এবং ভাটার সময় ছিল ৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার।
২২ আগস্ট, ২০২৪।
