প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও শহর রক্ষায় চাঁদপুর এসবি খাল পুনরুদ্ধারের গণদাবি

ইলশেপাড় রিপোর্ট :
চাঁদপুর শহরের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে এসবি (শ্রীরামদী ও বিষ্ণুদী) খাল দখলমুক্ত করার গণদাবি উঠেছে। এ দাবিকে কেন্দ্র করে শহরবাসী তাকিয়ে আছে জেলা প্রশাসনের জনবান্ধব ভূমিকা দেখতে। জেলা প্রশাসন এসবি খাল দখলমূক্ত করতে সর্বশেষ কোন আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করছে কিনা তা’ দেখার অপেক্ষায় শহরের সোয়া লাখ বাসিন্দা।
জানা গেছে, গেল কয়েক বছর আগে চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোড এলাকায় এক শ্রেণির নব্য ভূমি দখলদারদের নজরে পরে এই এসবি খালটি। দখলদাররা রাতের আঁধারে প্রায় ১ কিলোমিটার মতো খাল দখল করে নেয়। দখলদাররা এতটাই বেপরোয়া যে, তারা দখল করেই থামেনি। স্বল্প সময়ের মধ্যে দখলকৃত খালে ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ইমারত স্থাপন করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আবাসন প্লট তৈরি করে নেয়। যার কারণে এসবি খালের সাথে মেঘনা নদী ও ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অভিযোগ উঠে দখলদাররা খালটি দখল করে নেয়ার পর চাঁদপুর শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নাজুকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে নিয়মিত জোয়ার-ভাটায় চাঁদপুর শহরের পানিবদ্ধতায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় চরমভাবে।
ফলে শহরে নদীর জোয়ার-ভাটার পাশাপাশি সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শহরের বাসিন্দাদের কৃত্রিম জলাবদ্ধতার শিকার হতে হয় হর-হামেশাই। বর্তমানে যার উত্তরণেরও নেই কোন ব্যবস্থা। অপরদিকে খালটিতে ধারাবাহিক পানির ¯্রােত না থাকায় বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হিসেব হয়ে দেখা দিয়েছে। সারা দেশে জলবায়ুর ধারাবাহিক পরিবর্তনের কারণে তার প্রভাব এখন চাঁদপুর শহরজুড়ে বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাথে রয়েছে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশংকা।
এমন পরিস্থিতে চাঁদপুর শহরের অতি পুরনো ভবনসহ ছোট ছোট ইমারত যে কোন সময় কিংবা ভূমিকম্পে ভেঙে মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করছে পরিবেশবিদসহ স্থানীয়রা। যা প্রতিরোধে এখনি এসবি খালটি দখলমুক্ত করার দাবি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এজন্য চাঁদপুর শহরের বাসিন্দারা বর্তমান জনবান্ধব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দু’চারজন চিহ্নিত প্রভাবশালী দখলদারের কারণেই মূলত এমন বিপর্যয় শহরাবাসীদের তাড়া করে ফিরছে। অভিযোগ আছে এইসব প্রভাবশালীদের সাথে বর্তমান শাসক দলের জেলা পর্যায়ের দু’একজন শীর্ষ পর্যয়ের নেতাসহ চাঁদপুর পৌরসভার রহস্যজনক ভূমিকা রয়েছে। যার কারণে দখলদাররা দিবালোকে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অপরদিকে এসবি খালটি দখলদারদের অবৈধ দখলের কারণে নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কোড়ালিয়া রোড়ের এসবি খাল সেতুটি। বর্তমানে কোড়ালিয়া সড়কের উপর নীরব এ সেতুটির এক পাশে খাল আরেক পাশে দখলদারদের স্থায়ী ইমারত সাক্ষী হয়ে আছে শহরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ প্রশাসনের জন্য। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জন্য সেতুটি এতটা জীবন্ত সাক্ষী থাকার পরও তাদের রহস্যজনক ভূমিকাকে শহরবাসীর কাছে কৌতুহল আর দখলদারদের দৌরাত্ম্য অপলক দৃষ্টিতে পরখ করা ছাড়া কোন উপায় নেই। এখন সবার সামনে প্রশ্ন, তাহলে কি শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হচ্ছে না- এসবি খাল?