ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য, স্থায়ী দাতা সদস্য, কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যাঁদের অবদান, শিক্ষক ও কর্মচারীদের যৌথ বিবৃতি
লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ঐতিহ্যবাহী ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ নিয়ে একটি মহল অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে সাফল্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটাকে ব্যাহত করার জন্য এই ধরনের ঘৃণ্য অপপ্রচার কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ১৯৯৮ সালে ফরক্কাবাদ হাই স্কুলে প্রথম এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক মজুমদারের নেতৃত্বে স্থাপিত হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম ও শিক্ষামন্ত্রী মরহুম এএসএইচকে সাদেকের সহযোগিতায় কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি সুজিত রায় নন্দী, রুহুল আমিন হাওলাদার, হাফিজুর রহমান ঢালী ও রফিকুল্লাহ্ পাটোয়ারীসহ অন্যরা এই হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অপরিসীম ভূমিকা রাখেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের পর ফরক্কাবাদে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ উপলক্ষে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ আহমেদ পাটোয়ারী সাহেবের অফিসে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সংগঠিত করেন সুজিত রায় নন্দী। সে সময় সুজিত রায় নন্দীর ডাকে যাঁরা সাড়া দিয়েছিলেন, তাঁরা কালের সাক্ষী হয়ে আছেন এবং এখনও জীবিত আছেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সভায় তৎকালীন চাঁদপুর সদরের ৯নং বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকুল হায়দার খাঁন শিমুকে সাংগঠনিক সভাপতি ও মন্টু চৌধুরী-কে অধ্যক্ষ করার প্রস্তাব করেন সুজিত রায় নন্দী। এই প্রস্তাব সভায় উপস্থিত সকলে সমর্থন করেন।
চাঁদপুরে যে সভা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়, তা হয়েছিল ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেই সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজ্জাকুল হায়দার খাঁন শিমু। সেই সভাটি করার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল হক মজুমদার, রুহুল আমিন হাওলাদার, হাফিজুর রহমান ঢালী, ব্যাংকার রুহুল আমিন মিয়াজী, হারুন-অর-রশিদ তালুকদার, রফিক উল্লাহ্ পাটোয়ারী ও আ. হান্নান মিয়াজী।
কলেজটি যে জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় সেটি ছিল সুজিত রায় নন্দীর পূর্ব পুরুষদের সম্পত্তি। সেই জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ড ইরিগেশন প্রজেক্টের জন্য অধিগ্রহণ করে। সেখানে ইরিগেশন প্রজেক্ট স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সুজিত রায় নন্দী দেখা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুজিত রায় নন্দীকে তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সাথে দেখা করতে বলেন। তিনি তৎকালীন অধ্যক্ষ মরহুম মন্টু চৌধুরীর স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র নিয়ে গেলে তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী মরহুম আব্দুর রাজ্জাক জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেনকে নির্দেশ প্রদান করেন। সুজিত রায় নন্দী কলেজের অন্যান্যকে নিয়ে ডিজি মহোদয়ের সাথে দেখা করেন। তাঁর বাড়িও চাঁদপুরের হাইমচরে। সে কারণে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতা দেখান এবং আন্তরিকতার সাথে সহায়তা করেন। এরপর থেকে ওয়াপদা ভবনে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। কালের সাক্ষী হিসেবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন এখনো জীবিত আছেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রমকে সাথে নিয়ে কলেজটি উদ্বোধন করেন। নামফলকের শ্বেতপাথরটিও সুজিত রায় নন্দী বায়তুল মোকাররম থেকে বানিয়ে নেন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সুজিত রায় নন্দী। এ ব্যাপারে শিমু খান সহযোগিতা করেন।
কলেজের প্রথম অবস্থায় নিয়োগকৃত অধিকাংশ শিক্ষকমণ্ডলী সুজিত রায় নন্দীর সহযোগিতায় নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কলেজের উন্নয়নে সহায়তার জন্য সুজিত রায় নন্দী স্থানীয় গণ্যমান্যদের একত্রিত করেন এবং দাতা সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁদের অধিকাংশ এখনো কলেজের সাথে সম্পৃক্ত আছেন।
সুজিত রায় নন্দী দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এবং নিজের পরিবার থেকে অর্থ নিয়ে কলেজে শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা করতেন। কলেজের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে যাবতীয় আসবাবপত্র সুজিত রায় নন্দীসহ অন্যরা সংগ্রহ করেন। উল্লেখ্য, সুজিত রায় নন্দী নিজেও একজন স্থায়ী দাতা সদস্য।
কলেজটি প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর ২০০১ সালে সুজিত রায় নন্দী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে কলেজটি এমপিওভুক্ত করার জন্যে অনুরোধ করেন। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মরহুম এ. এস. এইচ. কে. সাদেক কলেজটি এমপিওভুক্ত করেন। এক্ষেত্রে সুজিত রায় নন্দীর একক প্রচেষ্টায় কলেজটি এমপিওভুক্ত করা হয়। কালের সাক্ষী হিসাবে আছেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের এপিএস বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান। ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ও কলেজের এমপিওভুক্তকরণে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।
পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসির সহযোগিতায় কলেজটিকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করেন সুজিত রায় নন্দী। এছাড়া এই কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করেন। পর্যায়ক্রমে ৭টি বিষয়ে কলেজে অনার্স কোর্স চালু করেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে অপরিসীম অবদান রাখেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান এ ব্যাপারে বেশ জোরালো সহায়তা করেন। তাঁদের সহযোগিতায় একটি দ্বিতল ভবন ও অপর একটি চারতলা বিশিষ্ট ভবন সেখানে স্থাপিত হয়। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে প্রশাসনিক ভবন, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের জন্য দোতলা ভবন নির্মাণ ও পুরাতন ওয়াপদা ভবনে কয়েকটি কক্ষ স্থাপন, কলেজের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ, মসজিদ নির্মাণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ যেসব কাজ করেছে তাতে অপরিসীম অবদান রাখেন সুজিত রায় নন্দী ও কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ড. হাসান খান। তাছাড়াও সুজিত রায় নন্দী রিফিউজিদের জন্য অধিগ্রহণকৃত ৫০ শতাংশ সম্পত্তি তৎকালীন ডিসি, চাঁদপুর মহোদয়ের মাধ্যমে আদায় করে দেন। শুধু তাই নয়, ভারত সরকারের সহযোগিতায় একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা মহাত্মা গান্ধী অডিটোরিয়াম ভবনটি উদ্বোধন করেন। চারতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন। এ ব্যাপারে সুজিত রায় নন্দীর একক প্রচেষ্টায় দুরূহ কাজ সম্ভব হয়।
সুজিত রায় নন্দী এই কলেজে মাননীয় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, বর্তমান ভূমি সচিব মাকসুদুর রহমান পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, শিক্ষা সচিব, পাওয়ার সেলের ডিজি ও আরইবি’র চেয়ারম্যান, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, ব্রিটেনের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকসহ অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিকে কলেজে নিয়ে আসেন।
কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা কাউকে ইচ্ছা করলেই বানানো যায় না। সেক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা ও নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করার বিধান রয়েছে। কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুজিত রায় নন্দীর অপরিসীম অবদান। প্রতিষ্ঠানটি তাঁর নামে নামকরণ করা হলেও সেটার ঋণ পরিশোধ করা যেতো না। কিন্তু আমরা প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে তাঁকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর অসামান্য কাজের সামান্য মূল্যায়ন করেছি মাত্র। এই কাজের স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যতে কেউ সমাজের জন্য কাজ করবে না। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যখন প্রতিষ্ঠাতা নিয়ে কলেজে সভা হয়, তখন সুজিত রায় নন্দীর নাম রাজ্জাকুল হায়দার খাঁন শিমু প্রস্তাব করেন। সেদিন একজন সদস্য ব্যতীত সভায় উপস্থিত সকলেই এতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। একজন দ্বিমত পোষণ করলেও পরবর্তীতে সকল আইন মেনে ম্যানেজিং কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সুজিত রায় নন্দীকে প্রতিষ্ঠাতা নির্বাচিত করেন। যা ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, সুজিত রায় নন্দী প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত ২৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কলেজকে প্রদান করেন। যা কলেজের ক্যাশবুকে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া কলেজের ছাত্রাবাসের জন্য ব্যক্তিগত অর্থায়নে ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে দেন।
আজকে যারা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছেন, এটা নিছক হীনমন্যতা। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা অবদান রেখেছেন তাদের কাউকেই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। উল্লেখ্য, ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, সৈয়দ আহমেদ পাটোয়ারী, মরহুম রাজ্জাকুল হায়দার খাঁন শিমু, মরহুম হাবিবুর রহমান গাজী, মাওলানা সাহাদাত হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার আঃ রব ভূঁইয়া, মফিজুর রহমান, জাকির হোসেন, সাইফুল ইসলাম খান, অ্যাড. ফজলুল হক সরকার, মরহুম মমতাজউদ্দিন মন্টু চৌধুরী, শ্রী বিজয় চন্দ্র দে, আমিনুল হক মজুমদার, হারুন-উর-রশিদ তালুকদার, হাফিজুর রহমান ঢালী, রুহুল আমিন হাওলাদার, মনসুর আহমেদ পাটোয়ারী, কবির আহমেদ ওসমানী সহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের অবদান অনস্বীকার্য।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা নিয়ে অতি উৎসাহী একটি পক্ষ অকারণেই কলেজের সুনাম নষ্ট করার হীন চেষ্টা করছে। দীর্ঘ কয়েক বছরেও তারা এ ব্যাপারে কোন প্রশ্ন তোলেনি। হঠাৎ কেন তাদের এই অপতৎপরতা, তা নিয়ে সকলের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে তাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই কলেজ প্রতিষ্ঠার পিছনে যে ইতিহাস রয়েছে, তা কোনভাবে বিকৃত করা যাবে না। বাবু সুজিত রায় নন্দীর নেতৃত্বে যেভাবে কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা চাই তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক।
বিবৃতির সপক্ষে স্বাক্ষর করেছেন গভর্নিং বডির ১২ জন সদস্য, ৫ জন দাতা সদস্য, কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এমন ১৪জন সদস্য এবং ৬২জন শিক্ষক-কর্মচারী।
৫ নভেম্বর, ২০২০।
