নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জে অটোরিক্সা চালক ফয়েজ খান হত্যার রহস্য উন্মাচন হতে চলেছে। ইতোমধ্যেই নৃশংস এই হত্যা কাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে পাশর্^বর্তী হাইমচর উপজেলা থেকে এক যুবককে আটক করেছে সিআইডি পুলিশ। এছাড়া ফয়েজ খানের ব্যবহৃত মুঠো ফোনটিও উদ্ধার করেছে তারা। যদিও তদন্তের স্বার্থে ঐ যুবকের নাম প্রকাশ করেনি সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আবু জাহের সরকার। তবে হত্যার সাথে জড়িত অন্যদের আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি বলেন, আশা করছি দ্রুত হত্যা রহস্য উন্মোচিত হবে।
উল্লেখ্য, নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর ১ এপ্রিল রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের লামচর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ফয়েজ খানের বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ রাতেই ফয়েজ খানের পিতা লতিফ খান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরদিন ২ এপ্রিল সকালে পোস্টমর্টেমের জন্য লাশটি চাঁদপুর প্রেরণ করে পুলিশ। ফয়েজ খান উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের লতিফ খানের একমাত্র ছেলে।
এর আগে ২৮ মার্চ ফয়েজ খান তার অটোরিক্সাটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এর পরদিন তার বাবা লতিফ খান ফরিদগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। এরপর ১ এপ্রিল রাতে উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের লামচর গ্রামের কালী মন্দিরের পাশে শিপন দাসের পরিত্যক্ত ঘর থেকে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত ও বিকৃত লাশের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের লোকজন তার পরিধেয় গেঞ্জি, প্যান্ট ও জুতা দেখে লাশটি ফয়েজের বলে সনাক্ত করেন।
এদিকে, লাশটি উদ্ধারের পর ফরিদগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ছায়া তদন্ত শুরু করে করে। এরই একপর্যায়ে সিআইডি পুলিশ মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে পাশ^বর্তী হাইমচর উপজেলা থেকে এক যুবককে আটক করার পর মামলাটির তদন্তভার তারা গ্রহণ করেছেন বলে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বাহার মিয়া জানান। অপরদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন আটক ঐ যুবক ফয়েজ খানের আত্মীয়।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে শুক্রবার বিকালে চাঁদপুরের সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আবু জাহের সরকার জানান, আটক যুবককে নিয়ে হত্যার সাথে জড়িত অন্যদের আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত হত্যা রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হবো।
১১ এপ্রিল, ২০২১।
