ফরিদগঞ্জে অসহায় পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জে একটি অসহায় পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিষ্ঠিত দোকানঘরটি ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বিচার প্রার্থনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি ।
উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামের গোলভান্ডার বাড়ির সামনে বুধবার (৫ মে) এ ঘটনা ঘটে।
থানায় লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায়, ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগী এনামুল হকের পৈত্রিকভাবে প্রায় ৪০ বছর ধরে একটি দোকান ছিলো। দোকানঘরটি পূনঃনির্মাণের প্রয়োজন হলে তিনি টাকা-পয়সার অভাবে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর টাকা সংগ্রহ করে দোকানটি পূনঃনির্মাণ করেন। দোকানটি পূনঃনির্মাণের পর-পরই পূর্বশত্রুতাবসতঃ আলমগীর ও সজিব হোসেন গংরা তা’ ভেঙে দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের নগদ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি ছাড়াও জানমালের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, এনামুল হক ও আলমগীর হোসেন গংদের দু’পক্ষেরই ওই দোকানটির স্থান নিয়ে বিরোধ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমিনুল হক মাস্টার গং দীর্ঘ ৪০ /৫০ বছর ধরে ঐ জায়গায় দোকান নির্মাণ করে ভোগ করে আসছেন। তাই প্রকৃত মালিককে জায়গাটি বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মাসুম বেপারী জানান, আমরা ছোট থেকে দেখেছি ঐ স্থানে আমিনুল হক মাস্টার ছোট টং দোকান নির্মাণ করে পরিচালনা করছেন। পরবর্তীতে তার ছেলে ঐ দোকান পরিচালনা করছেন। মাঝে কিছুদিন দোকান বন্ধ ছিলো। এখন দোকানটি সংস্করণ ও পুননির্মাণ করায় তাদের প্রতিপক্ষ সজীব গং দোকানটি ভেঙ্গে ফেলেছে এবং পুলিশ এসেছে। আমরা চাই নালিশি সম্পত্তির প্রকৃত মালিক যেনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়।
ভুক্তভোগী এনামুল হক বলেন, আমার দোকানটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দু’বেলা খাওয়ার আশায় দোকানটি পূনঃসংস্কার করেছি। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষরা সন্ত্রাসীদের ভাড়াটে এনে দোকানটি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। খবর পেয়ে আমি বাঁধা দিতে গেলে তার আমাকেও মেরেছে, আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
থানায় লিখিত অভিযোগের প্রধান অভিযুক্ত সজিব বলেন, জমিটি আমাদের। কিন্তু মালিকানার কাগজপত্র তিনি দেখাতে অনিহা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মশিউর রহমান জানান, ভুক্তভোগী এনামুল হক ‌999′ নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চাইলে ওসি স্যারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং স্থানীয় মুরব্বীসহ বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলে ও অভিযোগকারীর ঐ জায়গায় দোকানের নামে খাজনা-খারিজসহ বিভিন্ন কাগজ-পত্র দেখে জানতে পারি নালিশী দোকানের স্থানটিতে দীর্ঘ বছর ধরে আমিনুল হক মাস্টার গংরা দোকান নির্মাণ করে ভোগ-দখল করে আসছে।
বিষয়টি নিয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

০৭ মে, ২০২২।