বয়স্ক, বিধবা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের মধ্যে
নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জে করোনা (কোভিড ১৯) ভাইরাস দুর্যোগকালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেবাগ্রহীতার দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা এবং ১৫টি ইউনিয়নে চলছে জিটুপিতে ইলেক্ট্রনিক উপায়ে বয়স্ক, বিধবা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের মাঝে ভাতার অর্থ বিতরণ চলছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১৪১২৮ জন বয়স্ক, ৩৬৫০ জন বিধবা ও ৩৩৪৭ জন অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীর মাঝে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ৬ মাসের সর্বমোট ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইএফটি’র মাধ্যমে ভাতাভোগীর স্ব-স্ব ডিজিটাল একাউন্টে স্থানান্তরপূর্বক বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ ভাতাভোগীর বাড়িতে গিয়ে গিয়ে, এমনকি গাড়িতে বসে, দোকানে গিয়েও ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগকালে অসহায় মানুষগুলো ভাতার টাকা পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহাদাত হোসেন জানান, করোনা (কোভিড ১৯) ভাইরাসজণিত দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ ছুটিতে নিয়মিত অফিস খোলা রেখে ২১১২৫ জন ভাতাভোগীর ডাটা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনপূর্বক পে-রোল প্রদান করে মানুষের মাঝে টাকা পৌঁছে দিতে পেরে আমরাও আনন্দিত। ঈদের আগেই ৪র্থ কিস্তির এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ভাতার টাকা তাদের স্ব-স্ব একাউন্টে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। গতানুগতিকভাবে এই মুহূর্তে ব্যাংকে ভাতার টাকা বিতরণ অনেক কষ্টকর হত যা আমরা ডিজিটালভাবে সহজে ভাতাভোগীর কাছাকাছি পৌঁছে দিতে পারছি।
তিনি আরো জানান, জিটুপি নিয়ে গত এক বছরে ৭ মাসে জিটুপি অবহিতকরণ সভা, ভাতাভোগীর ডাটা এন্ট্রি, যাচাই-বাছাই, অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করার পরিশ্রম আজ দুর্যোগকালে বাস্তবায়ন করতে পেরে স্বার্থক মনে হচ্ছে। শুরুতে অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি ছিল, কিভাবে সম্ভব এই উপকারভোগীদের ডিজিটালাইডজ করে ভাতা দেয়া? কিন্তু বিবিধ প্রতিকূলতা স্বত্বেও আজ তা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি।
০৫ মে, ২০২০।
