ফরিদগঞ্জে করোনার বিশেষ খাদ্য কর্মসূচির কার্ড নিয়ে আ.লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে রণক্ষেত্র

দোকানপাট ভাঙচুর, আহত ১৫

নারায়ন রবিদাস
করোনাভাইরাসজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ খাদ্য কর্মসূচির কার্ডের ভাগাভাগি নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় কার্যালয়সহ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। হামলায় বাজার ব্যবসায়ীসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গোয়ালভাওড় বাজারে এই ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী লোকজনের জন্য বিশেষ রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করে। সেই অনুযায়ী ফরিদগঞ্জে পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১১ হাজার ৩শ’ কার্ডের মাধ্যমে কার্ডপ্রতি ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে বলে জানা যায়।
গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আ. মান্নান জানান, তার ইউনিয়নে বিশেষ রেশন কার্ডের ৭৪৬টি কার্ড বরাদ্দ হয়। গত মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের অনুষ্ঠিত সভায় ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত কার্ডের মধ্যে ৪০ ভাগ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য রেখে বাকি ৬০ ভাগের মধ্যে এমপির প্রতিনিধির ৩০ ভাগ, উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধির ২০ ভাগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০ ভাগ করে কার্ড বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০ ভাগ কার্ড নিয়ে দুই ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বাবুল ও টেলু পাটওয়ারীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। স্থানীয়রা জানান, এদের মধ্যে টেলু পাটওয়ারী বর্তমান এমপি গ্রপের ও আলমগীর হোসেন বাবুল উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের অনুসারী।
স্থানীয়রা জানায়, এরই জের ধরে বুধবার দুপুরে দু’গ্রুপ প্রস্তুতি নিয়ে গোয়ালভাওড় বাজারস্থ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। দফায় দফায় হামলায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গোয়ালভাওড় বাজারকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে। এতে তারেক (২৮), রুবেল (২৬), রাসেল (২৪), মজিব (৪০), সোহাগ (২২) সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।
হামলার মধ্যে একটি পক্ষ হঠাৎ করেই বাজারের নাহিদ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। নাহিদ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক সোহেল জানান, বাজারের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে হঠাৎ করেই একটি পক্ষ তাদের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর করে। এসময় তার ভাই জুয়েল হোসেন ও তাকে বেদম মারধর করে। হামলাকারীরা তাদের ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানকে তছনছ করে ফেলে। একই সাথে তারা নাছির নামে আরেক ব্যবসায়ীর দোকানও ভাঙচুর করে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগের এক পক্ষের অনুসারী আলমগীর হোসেন বাবুল জানান, বুধবার দুপুরে তাকে এমপি গ্রুপের লোকজন বেদম মারধর করে। তার বাড়ি ঘরে হামলা করে।
আরেক ইউপি সদস্য ও এমপি গ্রুপের অনুসারী টেলু পাটওয়ারী জানান, মঙ্গলবার তার উপর হামলার ঘটনায় বুধবার দুপুরে বিচার হওয়ার কথা। উভয় পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান নেয়। এরপর মারামারি শুরু হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আ. হান্নান জানান, কার্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রকিব জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ফোর্স সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

০৬ মে, ২০২০।