ফরিদগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক সন্তানের জননীকে কৌশলে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। গত সোমবার রাতে মামলা দায়েরের পর ঐ রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে আটক করে মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করেছে। এছাড়া ঘটনার শিকার ঐ গৃহবধূকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আটক জাকির হোসেন ৪ সন্তানের জনক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সন্তানের জননী ঐ গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে। স্বামী সৌদি প্রবাসী হওয়ায় সে তার বাবার বাড়ি রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া গ্রামে থাকতো। প্রায় বছরখানেক যাবত তার সাথে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার সাত্রা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জাকির হোসেনের টিকটক লাইকির মাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর দুজনেরই মোবাইলে কথোপকথন চলতে থাকে। এরই মধ্যে গত ১৭ জানুয়ারি জাকির হোসেন ঐ গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভনে গৃদকালিন্দিয়া থেকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে পাশর্^বতী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা সদরের বাবুর হোটেলে দু’দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এরপর ১৯ জানুয়ারি রায়পুর থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী তালতলা নামক স্থানে একটি অজ্ঞাত বাসায় আটকে রেখে সেখানেও ধর্ষণ করে। এর পরদিন অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি ঐ গৃহবধূকে ঐ বাসায় রেখে তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নিয়ে জাকির হোসেন পালিয়ে যায়। এসময় জাকির হোসেন তার মুঠো ফোনটিও বন্ধ করে দেয়। এরই একপর্যায়ে ঐ গৃহবধূ ২০ জানুয়ারি দুপুরে সে তার বাবার বাড়ি রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া গ্রামে ফিরে আসে। পরে ঐ গৃহবধূ তার এক ছোট বোনকে দিয়ে জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কৌশলে ২৪ জানুযারি রাতে জাকির হোসেনকে তাদের বাড়িতে ডেকে আনে। এসময় ঐ গৃহবধূর পরিবারের লোকজন পুলিশকে সংবাদ দেয়। ঐ রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে আটক করে ও ঐ গৃহবধূকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। পরে রাতেই ঘটনার শিকার ঐ গৃহবধূ বাদী হয়ে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বাহার মিয়া জানান, ২৪ জানুয়ারি রাতে মামলা দায়েরের পর ঐ রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে আটক করে মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করেছে। এছাড়া ঘটনার শিকার ঐ গৃহবধূকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

২৭ জানুয়ারি, ২০২২।