মুুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তোলপাড়
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে জীবিত ভোটারদের মৃত বানানোর চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা সমাবেশে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এ নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। ওই সভাতেই যাদের মৃত বলে তথ্য দিয়েছে এদের মধ্যে ৪ জন উপস্থিত থেকে এহেন ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, আগামি ১৩ মে সারাদেশের মতো ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ৩৯৫ জনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তালিকা যাচাই-বাছাই সংশোধন শেষে আগামিকাল ২ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। এরই মধ্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মৃত ৪ জনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়। কিন্তু আরো ৭ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম মৌখিকভাবে মৃত বলে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। গত ২৪ মার্চ উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের কাছে মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন ভূঁইয়া মুঠোফোনে ওই ৭ জনের তালিকা দিয়ে এরা মৃত বলে তালিকা দেন। ওই সময়ে মিজানুর রহমান তার অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমা-ার সরোয়ার হোসেনের নজরে আনেন তথ্যটি। পরবর্তীতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমা-ার সহিদ উল্ল্যা তপাদার ও সরোয়ার হোসেন ওই ৭ জনের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন তারা সবাই জীবিত রয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের তৎপরতাকে তারা ঘৃণিত বলে চিহ্নিত করেন।
তোলপাড় সৃষ্টি হওয়া এই ঘটনার বিষয়ে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমা-ার সহিদ উল্ল্যা তপদার, মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সভায় সেই তালিকায় থাকা ৪ জন উপজেলার দায়চারা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আহছান উল্ল্যা পাটওয়ারী (পরিচিতি নং ০১২৬০০০০২১৯), তাহেরুল ইসলাম পাটওয়ারী (পরিচিতি নং ০১১৩০০০৩৩৬৪), সাছিয়াখালির আ. কালেক পাটওয়ারী (পরিচিতি নং ০১১৩০০০০৪০৪) ও বালিথুবা গ্রামের আবুল বাশার ভূঁইয়া (পরিচিতি নং ০১১৩০০০২৪৭) উপস্থিত থেকে তারা মৃত নয়, জীবিত বলে নিশ্চিত করেন।
এছাড়া উপজেলার বাইরে অবস্থান করা সন্তোষপুর গ্রামের নুরুল আমিন (পরিচিতি নং ০১১৩০০০২৬৮০), ষোলদানা গ্রামের আবুল বাশার ভূইয়া (পরিচিতি নং ০১১৩০০০২৮৩০) এবং আদশা গ্রামের মীর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ (পরিচিতি নং ০১১৩০০০৩৭১২)- তারা উপস্থিত ছিলেন না। তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমা-ার নিশ্চিত করেছেন তারা জীবিত রয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমা-ার সরোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাক্রমে উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের অফিসে আমি উপস্থিত ছিলাম। মুঠো ফোনে মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন ভূঁইয়া এই তালিকা দেন। পরে আমি বিষয়টি সংসদ কমা-ারকে জানাই।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমা-ার সহিদ উল্ল্যা তপাদার বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত বানানোর অপচেষ্টা ঘৃণিত। যা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা জানি কারা জীবিত, কারা মারা গেছেন। ইতোমধ্যেই আমরা তথ্য নিয়ে মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা জমা দিয়েছি।
উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, খসড়া ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করার সময় যে কেউই সন্দেহ হলে নাম দিতে পারেন। সে হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন ভূঁইয়া ৭ জনের তালিকা মুঠোফোনে দিয়েছেন, যাচাই-বাছাই করার জন্য।
মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন ভূঁইয়া জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত বানানোর ঘটনা সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার করছে একটি চক্র।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমা-ার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ভোটের বিষয় নিয়ে এ ধরনের অপচেষ্টা দুঃখজনক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমুন নেছা জানান, আমাদের কাছে এসব তালিকা নিয়ে কোন লিখিত আবেদন কিংবা অভিযোগ আসেনি। আমি অবশ্যই সব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।
০১ এপ্রিল, ২০২৩।
