ফরিদগঞ্জে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাতের মৃত্যু

নবী নোমান
ফরিদগঞ্জে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক ডাকাত নিহত হয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক ও দুই পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৪ রাউন্ড কার্তুজ ও দেশীয় একটি পাইপগান ও চাপাতিসহ দেশীয় বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আ. রকিব সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান।
থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রকিব জানান, ১২/১৪ জনের একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দল ফরিদগঞ্জ উপজেলারপাইকপাড়া ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার চেরাগ আলী বাগানে বসে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সময় ওই এলাকার টহল পুলিশ বিষয়টি টের পেয়ে আমাকে জানালে আমি সেখানে উপস্থিত হই। পরে ফোর্স নিয়ে তাদের আটকের জন্য ঘিরে ফেললে তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে-ছুড়তে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ এই সময় আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন বেরিয়ে আসলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে আমরা বাগানে তল্লাশি চালিয়ে অজ্ঞাত এক ডাকাত দলের সদস্যকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। এসময় তার কাছে থেকে একটি পাইপগান, ৪ রাউন্ড কার্তুজ ও কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করি। আহত ডাকাত সদস্যকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় পুলিশের এএসআই মঞ্জুর আলম, কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেন ও ইসমাঈল হোসেন আহত হয়।
উল্লেখ্য, সাহাপুর গ্রামের আখন্দ বাড়ির ফয়েজ আহাম্মদ, মোহাম্মদ আলী ও ডা. ফারুকের ঘরে গত রোববার গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা তিনটি ঘরের আলমিরা থেকে নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা, প্রায় ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ৫টি মোবাইল সেট ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। এ সময় বাঁধা দেয়ায় আলিফ খান (৪০) কে কুপিয়ে আহত করে ডাকাতরা।
এছাড়া ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধা দিতে গিয়ে ডাকাতদের হামলায় আব্দুর রহমান কামাল নামে আরো একজন আহত হন। ডাকাতির ঘটনায় মো. মোস্তাক আহম্মেদ নামে একজন বাদী হয়ে পরদিন ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।