তাদের কারণে আজ আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছি
……মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জ উপজেলা সেক্টর কমাণ্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর উদ্যোগে সদ্যপ্রয়াত ফরিদগঞ্জের কৃতী সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের কমাণ্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী ও ৪নং সেক্টরের কমাণ্ডার মেজর জেনারেল (অব.) সিআর দত্ত বীরউত্তমের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী। তিনি বলেন, আমার মতো আরো অনেক সচিব, অনেক গুণীজন ভবিষ্যতে পাবেন। কিন্তু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বা একজন সেক্টর কমাণ্ডার পাবেন না। যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাই এসব সূর্য সন্তানদের স্মৃতি আমাদের ধরে রাখতে হবে।
সেক্টর কমাণ্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, কেন তিনি ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মেজর হয়েও বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে নেমে পড়েছিলেন। তিনি একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তার জীবনের প্রতিটি মূহূর্ত ত্যাগে পরিপূর্ণ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তিনি যেই সাহস দেখিয়েছেন তা আমাদের গর্বের বিষয়। একইভাবে আজকের স্মরণীয় আরেকজন সেক্টর কমাণ্ডার মেজর জেনারেল সি আর দত্ত বীর উত্তম। তাদের কারণে আজ আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বসে আছি। জনগণের টাকায় আমাদের সংসার চলে। অথচ আমরা সেই জনগণকেই মূল্যায়ন করি না। আমাদের সোনালী প্রজন্ম বীর মুক্তিযোদ্ধারা ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছেন। তাই এখনো সময় আছে আসুন প্রতিটি অনুষ্ঠানে আমরা এসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি। তাদের কাছ থেকে মুুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস শুনি।
আজকে আমরা যেই বাংলাদেশ সরকারের কথা বলছি, সেই সরকার প্রথম মুজিব নগরে হয়েছিল। সেখানে রাজনৈতিক, সামরিক বাহিনী, সাধারণ জনতা এক ও ঐক্যবদ্ধ হয়েই সরকার গঠন প্রক্রিয়া অংশ নিয়েছিল। সেদিনও আমাদের ফরিদগঞ্জের কৃতী সন্তান সামরিক বাহিনীর পক্ষে মুজিবনগর সরকারকে স্যালুট দিয়েছিলেন।
ছাত্রকমাণ্ড সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব আলম সোহাগের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, সেক্টর কমাণ্ডার আবু ওসমার চৌধুরীকে স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রজন্ম যাতে এসব আদর্শবান মানুষের সংগ্রামী ইতিহাস পড়ে নিজেদের আগামিদিনে প্রকৃত মানুষ হিসেবে তৈরি করতে পারে।
এসময় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার, যুবলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সদস্য মহিউদ্দিন খোকা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার শহিদুল্লা তপাদার, উপজেলা সেক্টর কমাণ্ডার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এম তবিবুল্ল্যাহ, জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল আমিন কাজল, যুগ্ম-সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান রানা, আলমগীর হোসেন, উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাও. মিজানুর রহমান খন্দকার প্রমুখ।
আলোচনা শেষে প্রয়াত দুই সেক্টর কমাণ্ডারসহ সবার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০।
