ফরিদগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে একমাত্র স্কুলটিতেই বিজয় দিবস পালিত হয়নি

মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
মহান মুক্তিযুদ্ধে রনাঙ্গণের বীর সেনানী চাঁদপুরের প্রথম শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জাবেদের নামে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় একমাত্র স্কুলটিতেই মহান বিজয় দিবস পালিত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপণে সুনির্দিষ্টভাবে বিজয় দিবস পালনের কথা বলা হলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোন কর্ণপাত করেননি। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের বিরামপুর শহীদ জাবেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা য়ায়, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক বসে আছেন। এমনকি বিদ্যালয়টির মাঠের এক পাশে স্থাপিত শহীদ বেদীতেও শ্রদ্ধা জানানো হয়নি।
বিদ্যালয়ের বিদোৎসাহী সদস্য সুমন আহমেদ ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের দিনে কোন অনুষ্ঠান হয় না, তা মেনে নেয়া যায় না। অনুষ্ঠান আয়োজন বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কোনরূপ সভারও আয়োজন করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলমের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপনমতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজয় দিবসসহ সব রাষ্ট্রীয় দিবসের অনুষ্ঠান করা বাধ্যতামূলক। বিরামপুর শহীদ জাবেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজয় দিবেসর অনুষ্ঠান না হলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার শহীদ উল্যাহ তপাদার বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর দেশটি স্বাধীন হয়েছে। এ স্বাধীনতা যুদ্ধে চাঁদপুরের প্রথম বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জাবেদ শহীদ বরণ করেছেন। আমরা সহযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে স্কুলটির নামকরণ হয়েছে। কিন্তু ওই স্কুলে বিজয় দিবস পালিত না হলে, তাহলে নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতা সম্পর্কে জানবে কিভাবে? কারো খামখেয়ালীপনায় এমন ঘটনা দুঃখজনক।

১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩।