ফরিদগঞ্জে ভেসাল জাল দিয়ে অবাধে চলছে দেশীয় মাছ শিকার

বিলুপ্তির পথে সুস্বাদু মাছ

নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জ উপজেলাটি চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে অবস্থিত। যদিও ডাকাতিয়া নদী উপজেলার মাঝ বরাবর অর্থাৎ এর বুক চিরে বয়ে গেছে। ফলে ডাকাতিয়া নদীকে ঘিরে পুরো উপজেলায় রয়েছে ছোটবড় অনেক খাল। এসব খালে এক সময় প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির অনেক জাতের ছোট বড় টেংরা মাছ, টাকি, শোল, গজার, শিং, মাগুর, বোয়াল, ফাসা, নুনা মাছ, তাপসি, কাইকা, চান্দা মাছ, মলা, চেলা, ঢেলা, বুইত্তা, বাইম, তারা বাইম, বাইলা, ভেটকি, চিংড়ী, কৈ মাছ, খৈলশা, পুটি দেখা গেলেও সংরক্ষণ পরিচর্যা এবং প্রজাতি ধরে রাখার ব্যবস্থা না থাকায় সর্বোপরি অসাধু জেলেদের ভেসাল জালসহ নানা জাল ব্যবহারে এগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে রয়েছে।
যদিও বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার ফলে এসব নদী, খাল, বিল এবং পুকুরে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা শুরু করে। এতে কয়েক প্রজাতির মাছ ফিরে আসলেও সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে শতাধিক ভেসাল জালের কারণে আবারো হুমকি ও বিলুপ্তির মুখে দেশীয় প্রজাতির এসব সুস্বাদু মাছ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নগুলোতে ঘুরে ও খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন খালে শতাধিক ভেসাল জাল বসানো হয়েছে। চান্দ্রা ওয়াপদা খাল, গোবিন্দপুর, চরদুঃখিয়া এলাকার খালে এসব জালের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে অবাধে দেশীয় প্রজাতির মা মাছ ও রেনু পোনা নিধন করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। আবার এসব মাছ ধরে দেদারছে হাট-বাজারে বিক্রি করলেও মৎস্য বিভাগের নেই কোনো তদারকি কিংবা কার্যকর কোনো ভূমিকা।
আবুল কালাম, ইদ্রিস আলী, আমান, কাদির, গনেশসহ বেশ কয়েকজন মাছ ব্যাবসায়ী জানান, অবৈধ ভেসাল জাল বন্ধ করা না গেলে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সরকারের নানা উদ্যোগ নিলেও কয়েক বছরপর ছোট মাছ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এর পরিবর্তে বিভিন্ন সার প্রয়োগে উৎপাদিত হাইব্রিড মাছ খেয়ে অসুস্থ হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা আকতার রুমা জানান, সরকার দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা ও ফিরিয়ে আনতে নানা চেষ্টা চালাচ্ছে। বিলুপ্ত প্রায় এসব মাছ রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। ভেসাল জালসহ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধে জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসলে তা বন্ধ করা সহজ হবে। আমি জনবল কম নিয়েও প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ভেসাল জাল তৈরী বন্ধ করা গেলেই কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ আনা সহজ হবে।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২।