প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে গণমানুষের গণস্বাক্ষর
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
বছরের পর বছর সড়কের পাশের চরে মাছ চাষ করার কারণে ভাঙনের কবলে পড়লেও হাজার হাজার লোকজনের চলাচলকারী রাস্তাটি মেরামত করে দেয়ার কোন উদ্যোগ নেয়নি মৎস্য ব্যবসায়ীরা। এক সময়ে রাস্তাটি দিয়ে গাড়ি চলাচল করলেও ভাঙনের কারণে এখন সাইকেল চালিয়ে পারাপার হওয়া দুষ্কর। গণমানুষের সড়ক খেয়ে ফেলা চরটি আবারো মাছ চাষের জন্য নিলামের আয়োজন হচ্ছে। এমতাবস্থায় সড়কটি রক্ষায় এবং মৎস্যচাষিদের মাধ্যমে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর গণস্বাক্ষরযুক্ত আবেদন করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জে গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চররাঘব রায় এলাকায়।
জানা গেছে, উপজেলার সোভান বাজার-ভাটিয়ালপুর-হরিণা সড়ক-জয়গঞ্জ ঘাট ( রোড আইডি নং ৪১৩৪৫৪০১৯) পর্যন্ত সড়কের গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর চররাঘর রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দক্ষিণ চররাঘব রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় পর্যন্ত সড়কের এক কিলোমিটার সড়কটি ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী সড়ক। সড়কের পশ্চিম পাশে বিশাল জনবসতি রয়েছে, যাতে অন্তত ৫ হাজার লোকের বাস। সড়কের পূর্বপাশে সিংহেরচরে দীর্ঘদিন ধরেই মাছ চাষ করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। মাছ চাষের কারণে এক সময়ে গাড়ি চলাচল করা সড়কটি ভেঙে গেছে। এখন সড়কটি দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাওয়া দুষ্কর। স্থানীয় লোকজন বারংবার মাছ চাষিদের সড়কটি মেরামতের জন্য বললেও তারা কর্ণপাত করছে না।
এমতাবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সিংহের চরটি আবারো মাছ চাষের জন্য নিলাম হবে। তাই সড়কটি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী গণস্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রাণেশ্বর দাস, নুরু মিয়া, মিজানসহ বেশ কয়েকজন জানান, চরের অধিকাংশই জমির মালিক গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের বাসিন্দা। জমির মালিকরা বেশি লাভের জন্য প্রতিবছর মাছ চাষের জন্য লিজ দেয় চরটি। কিন্তু গণমানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চর ইজারাদারদের দায়িত্বহীনতার কারণে মাছে খেয়ে ফেলছে। মাছ চাষের কারণে ব্যাপকভাবে ভাঙনের শিকার সড়কটি মেরামতে কোন পক্ষই উদ্যোগ নেয়নি। স্থানীয় লোকজনের ও ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের খুবই কষ্ট হয়। রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে কোন যানবাহন এই গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি রিক্সা, ভ্যানগাড়ী ও অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না।
ইতোপূর্বে চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান আড়াই কিলোমিটার সড়কটির মধ্যে এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য ডিও লেটার দেয়ার পর এলজিইডি সড়কটি পাকা করণে প্রাক্কলন তৈরি করে। চলতি বছর সড়কটির পাকাকরণ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে এলজিইডি। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখে এর ব্যয়ভার বেড়ে যেতে পারে এই আশংকায় কাজ হবে কি না- এই চিন্তায় রয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যেই আবারো চরের ডাক হবে। আমরা আশংকা করছি এবারের বর্ষায় সড়কটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আবরার আহমেদ জানান, চলতি অর্থবছরে আমরা সড়কের পাকাকরণের কাজ শুরু করবো। মাছে চাষের কারণে সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে লোক পাঠাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌলি মন্ডল বলেন, সড়ক ভাঙার অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২৫ জানুয়ারি, ২০২৪।
