ফরিদগঞ্জে সড়কে শিশু-কিশোরদের হাতে যানবাহনের স্টিয়ারিং

ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা

নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জ উপজেলার অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে শিশু-কিশোর ও অদক্ষ চালকদের হাতে নানা ধরনের যানবাহনের স্টিয়ারিং। এসব অদক্ষ চালকের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আর যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকাও রয়েছে। জীবিকার তাগিদে কিংবা সাংসারিক টানাপোড়নের ফলে এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। এতে শিক্ষাবঞ্চিতও হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। তবে এসব শিশু-কিশোর বা অদক্ষ চালক কাউকে পেলেই আইনী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ সড়কেই যানজটের কারণ অটোরিক্সা নামের যানবাহনটির। আবার অধিকাংশটিতেই লাইসেন্সবিহীন শিশু-কিশোর কিংবা অদক্ষ চালক বললেই চলে। এতে বিভিন্ন বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভা, চাঁদপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কসহ উপজেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়কে একই চিত্র বিরাজমান। যানবাহনগুলোর মধ্যে রয়েছে- অটোরিক্সা, সিএনজিচালিত স্কুটার, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, ব্যাটারিচালিত মিশুক, কিংশুক, ইঞ্জিনচালিত নসিমন ও ভটভটি। এসব যানবাহনেই শিশু-কিশোর বা অদক্ষ চালকরা দেখাচ্ছে তাদের দাপট।
মাঝে মধ্যে পুলিশি অভিযান চালালেও পরক্ষণে একই কায়দায় এসে পড়ে এসব চালকরা। সেই সাথে ফরিদগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন অলিতে-গলিতে এসব আনাড়ি চালকদের কারণে যানজটের কারণ হচ্ছে।
অদক্ষ ও আনাড়ি শিশু-কিশোর চালকদের কারণে কোনো কোনো সময় যাত্রীরা ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গ্রামীণ যাতায়াত সড়ক ছাড়াও মহাসড়কে অল্পবয়সী অদক্ষ চালকরাই চালাচ্ছে অটোরিক্সা ও সিএনজি। যাতে করে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে অটোরিক্সাসহ যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা কিন্তু অসংখ্য এবং কিশোর ও অদক্ষ চালকের কারণে এসব অটোরিক্সা ও গাড়িও অহরহ দুর্ঘটনা হচ্ছে।
তবে লক্ষ্য করা যায়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণির লেখাপড়া শেষ হতে না হতেই পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরিবারের কর্তারা তাদের ছেলেদের পড়ালেখা না করিয়ে এসব কাজে উৎসাহিত করছে। এসব শিশু-কিশোররা জীবনের শংকা নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে।
ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী অহিদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, দেখার কেউ না থাকায় ১২ বছরের ছেলেরাও এই শহরে দিব্যি অটোরিক্সা চালাচ্ছে।
এরকম অল্পবয়সী চালক ইব্রাহিম, রাসেল, আবুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন অটো চালকের সাথে আলাপ করলে তারা জানায়, পরিবারে মা-বাবা, ভাই-বোনদের ভরণ-পোষণের লক্ষ্যে এই যানবাহন চালানোর কাজে নিয়োজিত হয়েছি। লেখাপড়া কতদূর, জানতে চাইলে তারা হেসে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
সচেতন মহলের দাবি, এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অল্পবয়সী ছেলেদের পরিবারের কর্তারা যদি এভাবে রাস্তায় নামিয়ে দেয়, তাদের ভবিষ্যত অন্ধকার বলে মন্তব্য করেন অনেকে। পাশাপাশি এসব কোমলমতি অল্পবয়সী ছেলেদের যদি যানবাহন চালানোর কাজ থেকে ফিরিয়ে এনে পড়ালেখার দিকে মনোযোগী বা অন্য কোন টেকনিক্যাল কাজ শিখানো হয় তাহলে তাদের উজ্জল সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলা যাবে।
পুলিশের দাবি, আমরা লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এরকম কোন শিশু বা অদক্ষ ড্রাইভার কাউকে পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আবু সালেহ মো. বারাকাত উল্যাহ পাটওয়ারী বলেন, এসব শিশু-কিশোরদের থাকার কথা ছিলো পাঠশালা বা খেলার মাঠে। কিন্তু তারা হয়তো জীবিকার টানে এই অল্প বয়সে কোনো রকমের দক্ষতা কিংবা লাইসেন্স ছাড়াই সড়কে দাপিয়ে বেরাচ্ছে। এজন্য দায়ী কিছু মুনাফালোভী যানবাহনের মালিকরা। সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নিবে বলে আশা করি।
ফরিদগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলা শহরেও বিভিন্ন বয়সীদের লাইসেন্স দেয়া হয়। ফরিদগঞ্জ ছোট একটি উপজেলা, তবে আমরা শিশু-কিশোরদের বিষয়টি মাথায় রেখে লাইসেন্স দিবো।
বিষয়টি নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, যে কোনো সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশকেই সবার আগে দৌঁড়াতে হয়। দুর্ঘটনা বন্ধ করতে ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সার ব্যাপারে যারা লাইসেন্স দেন শিশু-কিশোরদের বিষয়টি বিবেচনা করে লাইসেন্স দেয়া প্রয়োজন।

০৭ এপ্রিল, ২০২২।