ফরিদগঞ্জে ২৫ জন কৃষকের সফলতার ব্যাপক আশা

ভাসমান বেডে সবজি উৎপাদনে

স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের মধ্যে জলাশয়ে ভাসমান বেডে সবজি উৎপাদন করতে তাদের আগ্রহ দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘরে দেখা যায়, ২৫জন কৃষক এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে সবজি উৎপাদনে সফলতার ব্যাপক আশা করছেন। তাদের এই কাজের প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছেন বেসরকারি সংস্থা আশা। তাদের এই পদ্ধতি অনুসরণ করে অন্য অসংখ্য কৃষক বেডে করে সবজি উৎপাদনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কৃষকরা জানান, কচুড়িপানা ও বাঁশের সাহায্যে জলাশয় বা পুকুরে ভাসমান বেড তৈরী করে সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে যখন ফসলি জমিতে পানি উঠে যায়, তখন অনেক জমি পতিত পড়ে থাকে। কোন ধরণের আবাদ হয় না। তখন ইচ্ছে করলে এসব জমিতে কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরী করা যায়। পানি বাড়লেও সবজির ক্ষতি হওয়ার কোন আশঙ্কা থাকে না। তবে অধিক বৃষ্টিপাত হলে সবজির ক্ষতি হওয়ার কিছুটা সম্বাবনা রয়েছে।
উপজেলার ধানুয়া গ্রামের কৃষক তাহের মিয়া বলেন, বেড করে সবজি উৎপাদনে তার আগেরও কিছু অভিজ্ঞতা আছে। এবছর আশার পক্ষ থেকেও কিছু কারিগরি পদ্ধতি শিখেছেন। ইতোমধ্যে উৎপাদিত লাউয়ের চারা বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতি ১শ’ চারা বিক্রি করেছেন ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। চাঁদপুর জেলায় এসব চারা বিক্রি হয়। এছাড়া এসব চারা ক্রয় করতে আসেন নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন ভোরে ব্যবসায়ীরা এসে চারাগুলো ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের গন্তব্যে।
একই এলাকার আরেক কৃষক মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, আশার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বর্ষার শুরুতে আমরা বাড়ির পাশে ডাকাতিয়া নদীতে কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরী করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে এসব বেডে নিজেদের জমি ও পুকুরে নিয়ে আসব। আমার ২৫টি বেড আছে। আমরা পরিবারের ৩ জন কাজ করি। এখন লাউ চারা উৎপাদন হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে লাল শাক, কুমড়ার শাক, পুঁই শাক, পালং শাক, ধনিয়া পাতা উৎপাদন হবে। এভাবে শুকনো মৌসুম আসার আগ পর্যন্ত উৎপাদন অব্যাহত থাকবে। আশা করি আমরা অনেক লাভবান হব।
কৃষক মিলন মিয়া বলেন, বর্ষার সময় এখানে কোন কাজ থাকেনা। আশা সংস্থার এগ্রিট্রেইনার এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণের পর আমরা কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরী করে চারা ও সবজি উৎপাদন শুরু করেছি। ভাসমান বেড প্রক্রিয়ায় সবজি উৎপাদন করতে সার ও কীটনাশকের তেমন ব্যবহার করতে হয় না। ফলে কম খরচে সবজি উৎপাদন করা যায়। তাছাড়া জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদিত হয় বিধায় ভালো দামে সবজি বিক্রি করা যায় এবং চাহিদাও খুব বেশী।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ধানুয়া গ্রামে প্রথমে কয়েকজন কৃষক এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন শুরু করলেও এখন অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। করোনার কারণে প্রথমে সবজির বাজার কিছুটা খারাপ থাকলেও এখন বিক্রি অনেক গুন বেড়েছে।
আশা চাঁদপুর জেলার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, আমাদের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া, সুবিদপুর ও শোভান গ্রামে মোট ২৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ভাসমান বেডের উপর চারা ও সবজি উৎপাদন শুরু করছে। আশা’র এগ্রিট্রেইনারের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং ভাসমান বেড তৈরী ও সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষকরা যাতে সহজে ঋণ পায় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি এই পদ্ধতিতে কৃষক সারা বছর একাধিক সবজি উৎপাদন করতে পারবে। এতে তাদের আয় কয়েকগুণ বাড়বে। তারাও লাভবান হবে এবং আমাদের দেশের শবজি উৎপাদন ও বৃদ্ধি পাবে- এলাকার চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র বিক্রি করতে পারবে।

১৯ নভেম্বর, ২০২১।