ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষোভ প্রকাশ

আ. ছোবহান লিটন
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতার কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনাতয়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান।
তিনি বলেন, সরকার যখন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে তখন কিছু অসাধু লোক জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেশের সম্পদ বিনষ্ট করছে। বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারা রোপণের নির্দেশনা এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অথচ ফরিদগঞ্জে কারণে-অকারণে অবাধে কাটা হচ্ছে গাছ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, টেন্ডার প্রক্রিয়া না মেনে জনৈক স’মিল ও কাঠ ব্যবসায়ীর যোগসাজশে সরকারি রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কয়েকজন ব্যক্তি অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে দেশকে।
পরিষদে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগণের রায় নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে এসেছি। জনগণের কাছে তাই আমাদের জবাবদিহিতা একটু বেশি। তারা আমাদের কাছে সেই প্রত্যাশাই করে। পরিষদের অর্থে কিছু দৃশ্যমান কাজ হওয়া উচিৎ। অন্যান্য উপজেলার তুলনায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার রাস্তা-ঘাট পরিমাণে বেশি খারাপ। গাড়ি তো দূরে থাক অনেক রাস্তা দিয়ে আমি পায়ে হেটে যেতেও কষ্ট হচ্ছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল এলাকার রাস্তাগুলি প্রয়োজনে ছোট ছোট স্কীম দিয়ে সংস্কার করা উচিৎ। আমি চেষ্টা তদবির করেছিলাম এডিবির বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে আনার জন্য, অথচ পরিষদের ভুলের কারণে গত জুনে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ফেরৎ গেছে। সমন্বয়হীনতার কারণে বাড়তি ফান্ড আনা দূরে থাক, মূল ফান্ডই ফেরৎ যায়।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জি এস তছলিমের প্রস্তাবনায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন ও প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, এক সময় ফরিদগঞ্জকে রাজাকার মান্নানের এলাকা হিসাবে চিনতো। এখন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর নামে চিনবে। তিনি ফরিদগঞ্জ থেকে চান্দ্রা সড়কটি আবু ওসমান চৌধুরীর নামে নামকরণ করার সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামানের প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে ফরিদগঞ্জ বাজারের নিয়মিত জানজট নিরসনে বাজার থেকে কেরোয়া লিংক রোডের মোড়টি প্রশস্ত নদীর উপর আরো একটি ব্রিজ নির্মাণ এবং বাইপাস সড়ক করার বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও বক্তব্য রাখেন। মাসিক সমন্বয় সভার পর আর কোন বিষয়ে সমন্বয় থাকে না উল্লেখ করে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, সহযোগিতা ও সমন্বয় চাই। তা নাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া যাবে না।
সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলি হরি বলেন, ফরিদগঞ্জ একটি বড় উপজেলা। চাহিদার সীমাবদ্ধতা না থাকলেও সরবরাহের ক্ষেত্রে এবং নিয়মনীতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাইলেও সব অপরাধ বা দুর্নীতি একত্রে দূর করা একটু কঠিন। আমরা প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরিবার পরিজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দুর্যোগ মুহূর্তে দায়িত্ব পালনে কোন কার্পণ্য করছি না। সুষ্ঠু ও সঠিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রকিব বলেন, সারাদেশে মাদকের অস্থিরতা একটু বেশি। ইতোমধ্যে আমরা একাধিক ইয়াবার চালানসহ অনেককে গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হাজতে প্রেরণ করেছি। গতরাতেও ২১০০ পিস ইয়াবাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছি।
সভায় উপজেলা পরিষদের একটি বিভাগের কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকলে অধিকাংশ বিভাগের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
শেষ পর্বে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফ আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, দেশে এখন শিশু মৃত্যুর হার অনেক কম। প্রতিবছর ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কারণে বিভিন্ন রোগ ও প্রতিবন্ধিতার হারও কমে এসছে। তিনি ভিটামিন এ ক্যাপসুলের গুণাগুণ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০।