নারায়ন রবিদাস
ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদে চলছে হরিলুট। চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠছেই। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ৩ জন সদস্য লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগও রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ঝর্ণা বেগম, জানাহারা বেগম ও শিরিনা আক্তারের লিখিত বক্তব্য ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন মহিলা মেম্বার ঝর্ণা বেগম ও জাহানারা বেগমের নামে দু’টি কাবিখা প্রকল্প উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে জমা দেন। ওই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই মহিলা মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেন। মহিলা মেম্বার শিরিনা বেগম ও ঝর্ণা বেগমের নামে বিগত দিনগুলোতে টিআর, কাবিখা, এলজি, এসপি ও ৪০ দিনের কর্মসূচিসহ কয়েকটি প্রকল্পের বিল ও ডিওতে স্বাক্ষর করিয়ে বিলসমূহ উত্তোলন করে চেয়ারম্যান নিজেই আত্মসাৎ করেন। এতে ভুক্তভোগী মহিলা সদস্যরা চরম হয়রানীর শিকার হয়েছেন।
মহিলা সদস্য জাহানারা বেগম জানান, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি কোন প্রকল্প আমাকে দেয়া হয়নি। নারী কোঠায় প্রকল্প থাকলেও চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন নিজেই মহিলা মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়ে যান।
এছাড়া পরিষদের চলমান মেয়াদকাল দু’বছর অতিক্রম হলেও প্যানেল চেয়ারম্যান নামে রেজুলেশন না করা, পরিষদের মাসিক সভায় সদস্যদের স্বাক্ষর জাল, ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ, মেম্বারদের সম্মানি ভাতা নিয়মিত প্রদান না করা, ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড থেকে হোল্ডিং নম্বর বাবদ ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকা আদায় করাসহ জন্ম সনদ, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃকালীন ভাতার কার্ড ও ওয়ারিস সনদসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড প্রদানে অনিয়মের এমন সব অভিযোগ করে চলতি মাসের ৭ তারিখে ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ৩ জন সদস্যই চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিসে থাকেন না, আমাদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করতে হলে হয় চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে, অন্যথায় সচিবের কাছে দিয়ে এসে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরো বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে তো প্যানেল চেয়ারম্যান থাকে আমাদের ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান দিলে চেয়ারম্যান সাহেবের কি এমন ক্ষতি হয়ে যাবে?
এদিকে চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন জানান, আমি সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের সবচাইতে বেশি প্রকল্প দিয়েছি, আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যদি দীর্ঘ সময় নিয়ে দেশের বাইরে যাই, তখন হয়তো প্যানেল চেয়ারম্যানের বিষয়টি বিবেচনায় আসবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মহিলা মেম্বাররা যে অভিযোগ করেছেন, ওই প্রকল্পের প্রথমে বিল উত্তোলন করে তাদের কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বাকি বিল উত্তোলন করে হয়তো মহিলা মেম্বারদের টাকা দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের সভাপতি ছাড়া অন্য কাউকে বিল প্রদানের কোনো নিয়ম আছে কি প্রশ্নের জবাবে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, লিখিত বক্তব্য হাতে পাইনি, পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
২১ মার্চ, ২০২২।
