সাবেকদের দৌঁড়-ঝাপে দিকভ্রান্ত নেতাকর্মীরা
ইল্শেপাড় রিপোর্ট
আসন্ন ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় একক প্রার্থীতা নিয়ে ত্রিধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। অপরদিকে গভীর সঙ্কটে আছে উপজেলা বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা নিজদের যোগ্যতা প্রমাণে মাঠে নেমেছেন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার অনেক আগেই। কেউ কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিতে ব্যাপক শো-ডাউন করছেন হরহামেশাই। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় একক প্রার্থী নিয়ে অনেকটাই বিপাকে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
বিপরীতে উপজেলা বিএনপিও আছে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটে। দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য কেন্দ্রিয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত পৌর নির্বাচনে একক প্রার্থী দিতে পারে বলে দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে দলটিতে ঝুঁকি নিয়ে এই মুহূর্তে ভোটের মাঠে লড়তে ইচ্ছুক নয় কোন হেভিওয়েট প্রার্থী’ই। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা বিএনপি কিছুটা সঙ্কটে রয়েছে। এছাড়া তো দলটিতে আছে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আর চরম গ্রুপিং।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে ত্রি-ধারায় বিভক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ একক প্রার্থীতা নিয়েই রয়েছে অনেকটা বিপাকে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অভ্যন্তরীণ এমন সঙ্কট দেখে তারাও আছে দিকভ্রান্ত অবস্থায়। পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ কামনা করছে দলটির কেউ কেউ। অন্যথায় বিপুল পরিমাণ প্রার্থী দাবিদার নেতাদের নিজেদের বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটতে পারে যেকোন অসহিষ্ণু ঘটনা, বলে আশঙ্কা তৃণমূলের।
এমন পরিস্থিতিতে পৌর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি করছে, বর্তমান সংসদ সদস্য বনাম সাবেক সংসদ সদস্যের অভ্যন্তরীণ বিরোধ যে কোন সময় প্রকাশ্য রুপ নিতে পারে। তাদের দাবি উপজেলা আওয়ামী লীগে অধিকাংশ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনই সাবেক সংসদ সদস্যের গড়া। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মী ও সমর্থক বিবেচনায় শক্তিশালী সাবেক সংসদ সদস্যের সমর্থকরাই। এমন কারণেই অসহিষ্ণু ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
তবে ফরিদগঞ্জ আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দলীয় রাজনীতিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমানের অবস্থান এখন বেশি শক্তিশালী। এমন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা এই মুহূর্তে তাকিয়ে আছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকেই। তিনি ফরিদগঞ্জ পৌর নির্বাচনী রাজনীতিতে কি ভূমিকা নেন দলীয় প্রার্থীতা পছন্দে। যদিও দলটির কেউ কেউ বলছে, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগই চূড়ান্ত প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন নির্বাচনে।
এদিকে গত পৌর নির্বাচনে বিএনপির দলীয় ফলফল তেমন সুখকর না হওয়ায় কিছুটা বিপাকে ও নেতা-কর্মীদের চাপে রয়েছে উপজেলা বিএনপি। যদিও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের দাবি ঐ নির্বাচনে দলীয় যোগ্য প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই নিশ্চিত জয়কে হাতছাড়া করতে হয়েছে আনকোরা নবীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে। যদিও মাঠ পর্যায়ের সেইসব নেতারাই এখন কথা বলছেন ভিন্ন সুরে। তারা বলছেন, এবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত নির্বাচনের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। এজন্য তার দাবি করছেন, এই মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেয়া মানেই নিশ্চিত পরাজয়কে বরণ করা।
যদিও উপজেলা বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন অন্য কিছু, তারা নিজেদের সব ধরনের বিভেদ ভুলে দলগতভাবে একট্টা হয়ে ভোটের মাঠে নামার তাগিদ দিয়েছেন নীতি নির্ধারকদের। তাহলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি উপজেলা বিএনপি কতটা এমন চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নিয়েই চিন্তিত দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
তারা বলছে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ মো. ইউনুছ মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষিত নেতা হলেও এই নেতা শিল্পপতি এমএ হান্নান ও মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর চিন্তাধারার বাইরে যেতে পারেন না। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি যোগ্য নেতার হাতে ধানের শীষ দিতে সক্ষম হবেন কি-না তা নিয়েই অনেকটা বিপাকে দলটির তৃণমূল নেতারা। এছাড়া উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন হারুন অর রশিদের প্রভাব তো আছেই।
উপজেলা আওয়ামী লীগ আর বিএনপিতে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে সাবেক ছাত্রনেতাদের দৌঁড়-ঝাপ এখন বেড়েই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে উভয় দলের ত্যাগী নেতারা অনেকটাই ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ অবস্থায় পরেছে। তারা দীর্ঘদিন দলের জন্য নিবেদিত হয়েও যেন এখন রাজনৈতিকভাবে দলে অনেকটাই কোনঠাসা অবস্থায় পরেছেন। ফলে উভয় দলের অনেকে প্রবীণ নেতাই নিজেদের আক্ষেপ আর অক্ষমতা নিয়ে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন।
এ কারণেই উপজেলা আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক প্রবীণ নেতাই এখন রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের সম্মান ধরে রাখার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন। তবে কেন্দ্রিয় নেতাদের কাছে তারা প্রত্যাশা করছেন, দলীয় প্রার্থীতা প্রদানে যেন যোগ্যতা বিবেচনায় তারা জনবান্ধব নেতাদের মূল্যায়ন করেন। তাহলেই প্রবীণ নেতা হিসেবে দলের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য্যকে উপভোগ করতে পারবেন বলে মনে করছেন প্রবীণ নেতারা।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত। ২০১৬ সালে ২০ জুন ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয় ফরিদগঞ্জ পৌরসভাটি।
২০০৫ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন বিএনপির মো. মঞ্জিল হোসেন। এরপর আইনী জটিলতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহফুজুল হক মেয়র নির্বাচিত হন। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে নতুন মুখ প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক পাবেন বলে পৌরসভায় গুঞ্জন রয়েছে।
১৪ ডিসেম্বর, ২০২০।
